গার্মেন্টসের ন্যূনতম মজুরি নিয়ে ঐকমত্য হয়নি

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৩
গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি মজুরি বোর্ড। গতকাল বৃহস্পতিবার মজুরি বোর্ডের অষ্টম সভায় মালিক পক্ষ প্রথমে সর্বনিম্ন মজুরি চার হাজার ২৫০ টাকা নির্ধারণের জন্য লিখিত প্রস্তাব দেয়। পরে তারা সাড়ে চার হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে রাজি হয়। কিন্তু শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম রনি এতে রাজি হন নি। এ নিয়ে উভয় পক্ষ দীর্ঘ যুক্তি পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করলেও শেষ পর্যন্ত একমত হতে পারেন নি। এক পর্যায়ে মজুরি বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য কামাল উদ্দিন সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বনিম্ন মজুরি পাঁচ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু তারপরও কোন সুরাহা হয় নি। শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি অন্য শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য আরো সময় চান। অন্যদিকে মালিক পক্ষও সাড়ে চার হাজার টাকার বেশি দিতে রাজি নন বলে জানান। এই অবস্থায় আগামী চার নভেম্বর পুনরায় মজুরি বোর্ডের বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে বোর্ডের চেয়ারম্যান এ কে রায় উপস্থিত সাংবাদিকদের আলোচনার বিষয়ে তথ্য দিয়ে বলেন, আগামী চার নভেম্বর পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আশা করছি, ওই দিন চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তাব তৈরি করতে পারব। শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম রনি ইত্তেফাককে বলেন, আমরা আট হাজার ১১৪ টাকার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। শিল্পের সক্ষমতা ও বাস্তবতা বিবেচনায় আমরা কিছুটা ছাড় দেব। সে জন্য আমাদের অন্য সংগঠন ও আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। তবে ন্যূনতম মজুরি ছয় হাজার টাকা হতে হবে বলে মনে করেন তিনি। অন্যদিকে মালিক পক্ষের প্রতিনিধি আরশাদ জামাল দিপু বলেন, গার্মেন্টস খাতের সক্ষমতা বিবেচনায় খাদ্য ভাতাসহ সর্বোচ্চ সাড়ে চার হাজার টাকা দেয়া সম্ভব। পাঁচ হাজার টাকা দেয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। তিনি শ্রমিক পক্ষের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে চার তারিখেও সমাধান হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। নিরপেক্ষ সদস্য কামাল উদ্দিন বলেন, শ্রমিকদের অবস্থা ও শিল্পের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে পাঁচ হাজার টাকার প্রস্তাব দিয়েছি। আমাদের দেখতে হবে শ্রমিকরা যাতে বেকার না হয়ে যায়। শ্রমিকদের বিক্ষোভ এদিকে তোপখানা রোডের মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালে বৈঠকস্থলের বাইরে বিক্ষোভ করেছে গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরাম, গার্মেন্টস শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতিসহ কয়েকটি সংগঠন।