লাখো কর্মী ঢাকায় এসে কঠোর আন্দোলনে নামবে

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৩, ২৩:০০
গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ১৯৮৩’র পরিবর্তে ‘গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩’ জারি করার সরকারি প্রচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মচারী সমিতি এবং নির্বাচিত পরিচালকরা। তাদের মতে, এর মাধ্যমে সরকার গ্রামীণ ব্যাংককে রাজনীতিকরণ করার অপকৌশল গ্রহণ করেছে। তারা বলেছেন, গ্রামীণ ব্যাংক ছিল একটি রাজনীতিমুক্ত, স্বচ্ছ এবং স্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠান। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩’র মাধ্যমে ব্যাংকটির কাঠামো পরিবর্তন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অন্যান্য সরকারি ব্যাংকগুলোর মতো গ্রামীণ ব্যাংকেও অনিয়ম, দুর্নীতি ঢুকে পড়বে। তাছাড়া এর মাধ্যমে পরিচালনা পরিষদের ক্ষমতাও খর্ব করা হয়েছে। আইনের ৮(২) ক্রমিক অনুযায়ী সরকারের সাথে পরামর্শ করে ব্যাংকের সকল নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যার তীব্র নিন্দা জানান তারা। প্রয়োজনে দাবি আদায়ের জন্য কঠোর কর্মসূচিসহ সারা দেশ থেকে লাখ লাখ সদস্যর ঢাকায় জড়ো করার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তারা জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ আইনের বিরুদ্ধে সমাবেশ করেন গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মচারীরা। ব্যাংকের নির্বাচিত সদস্যসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। এসময় তারা ‘সরকারের রোষাণল থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের মুক্তি চাই’, ‘গ্রামীণ ব্যাংক কমিশন বাতিল কর’, ‘গ্রামীণ ব্যাংক কেড়ে নিতে দেবো না’, সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার প্রদর্শন করেন। এসময় গ্রামীণ ব্যাংকের নির্বাচিত পর্ষদ সদস্য তাহসিনা খাতুন বলেন, সরকার আমাদের দাবি মেনে না নিলে সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ব্যাংকের লাখ লাখ সদস্যকে ঢাকায় জড়ো করে কঠিন আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আমরা প্রাণ থাকতে এ ব্যাংক কেড়ে নিতে দেবো না। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. সামশুল আলম, ভারপ্রাপ্ত এমডি এম শাহজাহান প্রমুখ। সামশুল আলম গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩’র বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আগামী ৩ নভেম্বর গ্রামীণ ব্যাংকের সকল জোনাল অফিস এবং এরিয়া অফিসের মাধ্যমে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। গত রবিবার রাতে জাতীয় সংসদে বহুল আলোচিত গ্রামীণ ব্যাংক বিল-২০১৩ উত্থাপন করা হয়েছে। বিলে গ্রামীণ ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিলটি উত্থাপন করার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংসদে রিপোর্ট দেয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয়। বিলে বলা হয়েছে, সামরিক শাসনামলে জারি করা অর্ডিন্যান্স ১৯৮৩ অধীনে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক নতুন আইনে এমনভাবে বহাল থাকবে যেন, তা এই আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতে করে এই ব্যাংক এখন থেকে সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ দ্বারা পরিচালিত হবে। এছাড়া ব্যাংক কোম্পানি সংক্রান্ত বলবত্ অন্য যে কোন আইনের বিধানসমূহও এখন থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বিলে বলা হয়, বোর্ডের একজন চেয়ারম্যান থাকবেন, যিনি সরকার নিযুক্ত পরিচালকদের মধ্যে থেকে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হবেন। নির্বাচিত পরিচালকদের কার্যকাল হবে তিন বছর। কোন পরিচালক একাদিকক্রমে দুই মেয়াদ পরিচালক থাকার পর তিন বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত আর পরিচালক পুনঃনির্বাচিত হতে পারবেন না। গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি নিয়োগ প্রসঙ্গে বিলে বলা হয়েছে, বোর্ড বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ব অনুমোদন নিয়ে বাছাই কমিটির সুপারিশকৃত তিন জনের প্যানেল থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডি নিয়োগ করবে। যিনি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী হবেন এবং অনধিক ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরিতে বহাল থাকতে পারবেন। বিধি মোতাবেক ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন হবে এক হাজার কোটি টাকা। এই মূলধনের ২৫ ভাগ সরকার বা তার নিয়ন্ত্রিত সংস্থা বা সংগঠন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। বাকি ৭৫ ভাগ ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে।