সিলেটে আচমকা দুই পাজেরোর প্রবেশ, অতঃপর হাওয়া

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৩, ২৩:০২
সিলেটের বিয়ানীবাজার সীমান্তের সুতারকান্দি স্থলবন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন আইন অমান্য করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বেপরোয়া গতিতে দুইটি পাজেরো গাড়ির প্রবেশ ও দ্রুত লাপাত্তা হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গাড়ি দুইটিতে বিএনপির দুই নেতা হারিছ চৌধুরী ও ‘নিখোঁজ’ ইলিয়াস আলী ছিলেন বলে সিলেটে জোর গুজব চলছে। পুলিশ গাড়ি দুইটিকে আটক করতে বিভিন্ন স্থানে টহল বসিয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায় বাঁশকল ভেঙে ভারত থেকে ইমিগ্রেশন আইন অমান্য করে গতকাল সকালে দেশে আসা দুইটি গাড়ি প্রবেশের ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। একই সাথে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও মাঠে তত্পর রয়েছে। সূত্র জানায়, সুতারকান্দি স্থলবন্দর দিয়ে সকাল পৌনে ১০টায় ভারত থেকে রূপালি ও কালো রঙের দুইটি পাজেরো গাড়ি বাংলাদেশে প্রবেশ করে ও বাঁশকল ভেঙে দ্রুতগতিতে সেখান থেকে সটকে পড়ে। দুইটি গাড়িতেই কালো গ্লাস থাকায় ভেতরে কারা ছিল তা দেখা যায়নি। তবে গুজব রটে যে, দুইটি গাড়িতে করে এম. ইলিয়াস আলী ও হারিছ চৌধুরী ভারত থেকে গোপনে দেশে ফিরেছেন। এ ঘটনা গোটা সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। কেউ কেউ বলেন, বিএনপির দুই নেতা যুক্তরাজ্য থেকে ভারত হয়ে দেশে আসতে পারেন। তবে এদের দেশে আসার ব্যাপারে কোনো দায়িত্বশীল সূত্র তথ্য দিতে পারেননি। সিলেটের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা ভারতের কাস্টমস কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানান, সকালে ভারতে ইমিগ্রেশন শেষে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন ব্রিটিশ নাগরিক কাবুল মিয়া, আসকর আলী ও আত্তর আলী মিতসুবিশি কোম্পানির তৈরি দুইটি জিপ গাড়িতে করে সুতারকান্দি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তবে ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী ওই তিন নাগরিক মিতসুবিশি কোম্পানির তৈরি একটি সিলভার ও একটি কালো রংয়ের জিপ নিয়ে বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডে প্রবেশ করেই দ্রুতগতিতে সেখান থেকে চলে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয়। পুলিশ পুরো সিলেট জুড়ে তল্লাশি করছে। পুলিশের ধারণা, শুল্ক ফাঁকি দিতেই এভাবে গাড়ি দুইটি পালিয়ে গেছে। সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, একটি গাড়ির চালক কাবুল নামের একজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী। যার পাসপোর্ট নম্বর-৪৫৪৭৯৩৩৫৬। অন্য গাড়ির চালক আসকর আলী। তার পাসপোর্ট নম্বর ৫০৮৮৯৮৫৫৮। তাদের সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তির নাম আত্তর আলী, তার পাসপোর্ট নম্বর ৬৫২৪৯১৪৮৭। উল্লেখ্য, বিএনপির সাবেক এমপি ও সিলেট জেলা সভাপতি এম. ইলিয়াস আলী ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন। মাস দুইয়েক আগে দেশজুড়ে গুঞ্জন ওঠে, ইলিয়াস ভারতের একটি কারাগারে আটক আছেন। অপরদিকে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী ওয়ান ইলেভেনের সময় আত্মগোপন করেন। পরে তিনি ভারত হয়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান বলে গুঞ্জন ওঠে। এম. ইলিয়াস আলীর বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথে ও হারিছ চৌধুরীর বাড়ি সীমান্তবর্তী কানাইঘাট উপজেলায়। বিয়ানীবাজার সংবাদদাতা জানান, অবৈধভাবে দুইটি গাড়ি বাংলাদেশে প্রবেশের দায়ে সুতারকান্দি স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে গতকাল রাতে বিয়ানীনাজার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে দায়িত্বে অবহেলার কারণে ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমদকে সিলেট পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।