রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস জুড়ে রয়েছে বিরোধী দলের নানা আন্দোলন কর্মসূচি। ইতিমধ্যে নভেম্বর মাসে বিরোধী দলের হরতাল অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ সব কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক অফিস, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ভবন, বিমান বন্দর, অফিস আদালত, পুলিশ ও থানাসহ সম্ভাব্য স্থানে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটনা এবং রাজনৈতিক নেতা খুনের আশঙ্কা রয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু প্রথম সারি নেতারা। দেশব্যাপী বিস্তারিত তথ্য অনুসন্ধান করে নভেম্বরে বিরোধী দলের আন্দোলনকে ঘিরে কী ধরনের নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে তার একটি প্রতিবেদন ইতিমধ্যে একটি গোয়েন্দা সংস্থা শীর্ষ প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি সামনে রেখে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গত বুধবার রাত থেকে দেশব্যাপী ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, প্রথম দিনে বিরোধী দলের অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে। অপরদিকে বিরোধী দলের আন্দোলন প্রতিরোধে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠন মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী চরম উত্কণ্ঠা ও উদ্বেগ বিরাজমান। ব্যবসায়ী মহলে দেখা দিয়েছে উত্কণ্ঠা।
পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, গত ৫ দিনে বিরোধী দলের হরতাল কর্মসূচি কেন্দ করে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়। পুলিশের মনোবল ভাঙ্গার জন্য এ হামলা। পুলিশ জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন থেকে কোন অবস্থায় পিছু হটবে না। পুলিশের ওপর হামলাসহ যে কোন নাশকতা রোধে যে মাত্রায় অপরাধ, সেই মাত্রায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইজিপি।
অপর একটি সংস্থা সূত্রে জানা যায়, হামলা, ভাংচুরসহ নাশকতারোধে সরকার হার্ডলাইনে। এ পরিবেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হাতে দমনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দফতর থেকে বলা হয়, গত ৫ দিন হরতালসহ বিরোধী দলের কর্মসূচির মধ্যে ১৮৪ জন পুলিশ আহত হয়েছে। এক ওসি ও এএসআইসহ ৩ জন পুলিশ সদস্যের অবস্থা আশংকাজনক। বিরোধী দলের ২১ জন নেতাকর্মী নিহত এবং আহত হয়েছে সহস্রাধিক। দেশব্যাপী গ্রেফতারের প্রকৃত সংখ্যা গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সদর দফতরে আসেনি বলে এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান।
র্যাব সদর দফতর সূত্রে জানা যায়, জনগণের জানমালসহ সরকারি সম্পদের ওপর হামলা, ভাংচুর ও হত্যাকাণ্ড চালিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করবে। এ পরিস্থিতিতে র্যাব সদস্যরা বসে থাকবে না। ঘটনা অনুযায়ী মোকাবিলায় কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানানো হয়।
