প্রভাষক, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ
পাবনা মেডিকেল কলেজ, পাবনা
হূদপিন্ডের মাংস-পেশীর
প্রদাহকে মায়োকার্ডাইটিস
বলে। বিভিন্ন কারণেই এই
প্রদাহ হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ফাংগাস দিয়ে যেমন মায়োকার্ডাইটিস হয়। আবার সারকয়ডোসিস, অ্যামাইলয়ডোসিস ইত্যাদি
বিরল কিছু অসুখেও এ রোগ
হয়। বিভিন্ন ভাইরাস মায়োকার্ডাইটিস করে। এর
মধ্যে রয়েছে-ককসাকি ভাইরাস, সাইটোমেগালো ভাইরাস, হেপাটাইটিস সি, হার্পিস, এইচআইভি, পারভো ভাইরাস। ভাইরাসের মত ব্যাকটেরিয়াও এ রোগ ঘটায়। এসব ব্যাকটেরিয়া হলো ক্ল্যামাইডিয়া, মাইকোপ্লাজমা, স্ট্রেপটোকক্কাস, ট্রিপোনেমা। বিভিন্ন ফাংগাসের মধ্যে ক্যানডিডা, হিস্টোপ্লাজমা, এসপারজিলাস, ক্রিপ্টোকক্কাস। কিন্তু মায়োকার্ডাইটিস ঘটাতে পারে।
রোগের লক্ষণ
মায়োকার্ডাইটিসে অনেক
সময় কোন লক্ষণ থাকেনা। সাধারণ সর্দি জ্বরে যেমন
সমস্যা থাকে তেমন সমস্যা থাকে। এছাড়া যেসব লক্ষণ
দেখা দিতে পারে তা হলো- অস্বাভাবিক হূদস্পন্দন,দুর্বলতা, বুকে ব্যথা, জ্বর, পা ফোলা, শ্বাসকষ্ট ও সারা শরীর ব্যথা। এছাড়া মায়োকার্ডাইটিস থেকে রোগী অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা
চিকিত্সক রোগীর পরীক্ষা করে
এ অসুখ সম্পর্কে ধারণা পেয়ে থাকেন। রোগীর জ্বর, সাথে অস্বাভাবিক হূদস্পন্দন, পা
ফোলা ইত্যাদি উপসর্গ থাকতে পারে। যে সব পরীক্ষা করে নিশ্চিতভাবে এ রোগ নির্ণয়
হয় তার মধ্যে রয়েছে- রক্তের পরীক্ষা, বুকের এক্স-রে, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাফি, হূদপিন্ডের মাংশপেশীর বায়োপসি।
চিকিত্সা
মায়োকার্ডাইটিসের চিকিত্সায় বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহূত হয়।
আর এন্টিবায়োটিক ব্যবহূত
হয় ব্যাকটেরিয়া দূর করতে। ডাইইউরেটিক ফোলা ও
শ্বাসকষ্ট কমাতে সাহায্য করে। মায়োকার্ডাইটিস হলে
লবণ কম খাওয়া উচিত এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামে থাকা উচিত। প্রদাহ বিরোধী ওষুধ ব্যবহূত হয় কিছু ক্ষেত্রে। হার্ট ফেইলিওর হলে তার চিকিত্সা করতে হয়। মায়োকার্ডাইটিসের কিছু জটিলতা আছে। এখান থেকে কার্ডিওমায়োপ্যাথি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হার্ট ফেইলিওর এবং পেরিকার্ডাইটিস হতে পারে।
হার্টে প্রদাহ হলে এর সংকোচন প্রসারণ ছন্দ নষ্ট হয়ে যায়। যার পরিণতিতে অকালমৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই সতর্ক হতেই হবে। অবশ্যই একজন দক্ষ চিকিত্সকের কাছে যাওয়া উচিত। অবহেলা করলে পরিণতি মারাত্মক হতে পারে।
