বিষয়টি আত্মোপলব্ধির, আইনের নয়

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৩, ২১:১৫
সমাজে অবহেলিত প্রবীণদের অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে চলেছে। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখভাল করার দায়িত্ব সন্তানদের ওপর বর্তালেও তেমন সুফল আসবে বলে মনে হয় না। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বহু জায়গায় অসহায় বৃদ্ধ পিতা-মাতার প্রতি সন্তানদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্বন্ধে জোর নির্দেশ থাকলেও উপেক্ষার হার বেড়ে চলেছে। ফলে আগামীতে দেশ ও সমাজের জন্য বৃদ্ধ জনগোষ্ঠী গলগ্রহের কারণ হয়ে দেখা দেবে। নিকট অতীতেও যে সব মানুষ দেশ সমাজ ও পরিবারের জন্য অবদান রেখে গেছেন তাঁদের দুর্দশা সত্যিই বেদনাদায়ক। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নির্মিত বৃদ্ধাশ্রম অপ্রতুল ও সমাজে এখনো সর্বত্র সুপরিচিত নয়। বড় বড় শহরে বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই নেওয়া বৃদ্ধের সংখ্যা খুব কম। যে সব চাকরিজীবীর পেনশন সুবিধা নেই তাঁদের অবস্থা যে কত বেদনাদায়ক তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই জানেন। আমেরিকা প্রবাসী এক ভদ্রলোক প্রায় নব্বই বছর বয়সী মৃত্যুপথযাত্রী মাকে দেখতে এসেছিলেন। ১৯৮২ সালে মধ্যবিত্ত পরিবারের একান্ত প্রচেষ্টায় ভদ্রলোক সুখ-স্বাচ্ছন্দের আশায় ঐ দেশে পাড়ি জমান। পরিবারের আশা ছিল—তাদের বিদেশগামী সন্তান এদেশে রেখে যাওয়া ভঙ্গুর পরিবারের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকবে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস প্রাথমিক পর্যায়ে কিছুটা সহযোগী মনোভাব দেখালেও আস্তে আস্তে নিজেকে সরিয়ে ফেলেন। প্রশ্ন রাখলে তাঁর সোজাসাপটা জবাব শুনে অবাক হয়ে যাই। তাঁর মতে, বাবা-মা বা পরিবারের দায়িত্ব ছিল তাঁকে মানুষ করে বিদেশে পাঠানো। এক্ষণে তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজ স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সুখ- শান্তিতে আছেন এবং তিনি কারো গলগ্রহ নন। ভাবখানা এমন যে সারাজীবন নবীন হয়েই বিচরণ করবেন। অবাক লাগে ভদ্রলোক যে পরিবারের সন্তান সেখান থেকে আর্দশ শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গ্রহণ করেও পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির সঙ্গে নিজকে মানিয়ে নিতে দ্বিধাবোধ করেননি। তাহলে তাঁর জন্য পরিবার যা করেছে তা ভুল ছিল! আত্মসমালোচনার মাধ্যমে বাবা-মা ও স্বজনদের প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্য সন্তানদের উত্সাহিত করা অপরিহার্য। প্রবীণরা যদি তাঁদের বেঁচে থাকা বাবা-মা ও স্বজনদের প্রতি অবিচার করতে থাকেন তাহলে তাঁরা তাঁদের সন্তানদের কাছ থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশা করতে পারেন না। বরিশাল