আইওটি ডিভাইসের নিরাপত্তা নিয়ে সঙ্কিত ব্যবহারকারীরা

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৮, ২০:২৫

এ বছরের শুরুতে, আমরা এশিয়া-প্রসান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের তাদের স্মার্ট গ্যাজেটগুলো কতটুকু সুরক্ষিত ছিল তা আলোচনা করেছিলাম। এর ফলাফল হিসেবে ২২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৫০ জনের উত্তর থেকে আমরা কিছু আকর্ষণীয় তথ্য পেয়েছি। উত্তরদাতাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ছিল যারা আস্থার অভাবে ভুগতে ছিল যে, তাদের আইওটি ডিভাইসটি সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। আবার অনেকের কাছে তাদের ডিভাইসের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তেমন কোনো তথ্যই নেই। কনটাক্ট ডিভাইসগুলো আমাদের ব্যক্তিগত জায়গায় স্থানান্তর করা হয়। অফিস কিংবা আমাদের বাড়ি থেকে আমাদের এক্টিভিটিস সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। গত সপ্তাহে আমাদের প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে আইওটি ইকোসিস্টেমে নিরাপত্তায় বিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য এখন অনেক কাজ করা দরকার সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

এশিয়া- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আইওটি শিল্প গড়ে উঠার একটি অন্যতম ক্ষেত্র। চীন ও ভারতের মতো এখানেও ভোক্তাদের মাঝে আইওটি ডিভাইস ব্যবহারের প্রবণতা দেখা দিয়েছে এবং এখানে এর বড় বাজার তৈরি হয়েছে। শাওমি, স্যাংসাং ওয়্যারঅ্যাবল, স্মার্ট যন্ত্রপাতি, ভার্চুয়াল অ্যাসিসটেন্ট এবং অনেকগুলো স্টার্টআপ যুক্ত করেছে। এদিক থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে।

প্রকৃতপক্ষে, প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, জড়িপে উত্তরদাতাদের মধ্যে বেশিরভাগই আইওটি ডিভাইস ব্যবহার করছে। আরো একটি বিষয় হলো, এখন ৭৩ % মানুষ আগামী ১২ মাসের মধ্যে আইওটি ডিভাইস কেনার কথা ভাবছে।

২০১৬ সালের মিরাই বটনেট এর ঘটনা, যা ঘটেছিল অসুরক্ষিত সিসিটিভির পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে। এগুলো ব্যবহূত ডিফল্ট পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয়েছিল না। বাড়িতে শিক্ষনীয় খেলনাগুলো যখন কথপোকথন করে অথবা স্মার্ট স্পিকার তার মালিকের পরামর্শ ছাড়াই কেনাকাটা করতে পারে। এবছর এখানেও কিছু নিরাপত্তা ত্রুটি ছিল। এবং ব্যবহারকারীরা এই নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে সচেতন হয়েছে। ব্যবহারকারীদের মধ্যে তিন এর দুই অংশ মনে করে তাদের এক্সেস হাকারদের হাতে চলে যেতে পারে এবং তারা এ বিষয়টিকে হুমকি বলে মনে করে। আবার অনেকেই তাদের অনুমতিব্যতীত নজদারির বিষয়ে ভিষণ উদ্বিগ্ন।

নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। ব্যবহারকারীদের ডিভাইসগুলো নিরাপদ রাখতে পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু এমনটি আমরা জড়িপে খুঁজে পাইনি এবং এই কাজের জন্য যথেষ্ট সরঞ্জামও নেই। বর্তমানে, ৭০% উত্তরদাতা তাদের ডিভাইস থেকে সংগৃহীত তথ্যগুলো মুছে ফেলার বিকল্প খুঁজছেন এবং তারা জানতে আগ্রহী যে, কীভাবে তাদের ডিভাইসগুলোতে ডাটা শেয়ার হয়। সব মিলিয়ে তারা তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের উপর আরো নিয়ন্ত্রণ দাবি করে। এই কাজটি প্রাথমিকভাবে আইওটি ডিভাইস উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও সেবাদাতাগুলোর উপর বর্তায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, দশজন উত্তরদাতার মধ্যে ৯জনই মনে করে, তাদের আইওটি ডিভাইসের মাধ্যমে তথ্য শেয়ারের নিরাপত্তার আরো উন্নতি চায়। তিন জনের মধ্যে দুইজন মনে করে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা তাদের আইওটি ডিভাইস ক্রয়ের ব্যপারে প্রভাব ফেলবে।

সরকারের জন্য, এই শিল্পটি সঠিক পথে পরিচালনার জন্য বিশ্বাস যোগ্যতার বিষয়গুলো সঠিকভাবে প্রচার করা প্রয়োজন। পণ্যগুলোর নিরাত্তার মান নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এটি ইতোমধ্যে ব্যপকভাবে খাদ্য খাতে, ইলেকট্রনিক ও ইকুপমেন্ট সাপ্লাইয়ারে চর্চা শুরু হয়েছে। ৯০% উত্তরদাতা বলেছিলেন, তারা এমন আইওটি ডিভাইস কিনতে চায় যা নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত থাকবে। আইওটি খাত আগামী বছর একটি মাইলফলক অর্জনে সক্ষম হবে। এই প্রথম এর সংখ্যা বিশ্বব্যপী জনসংখ্যার চেয়ে বেশি হবে। এটি একটি অসাধারণ প্রবৃদ্ধি।

  লেখক : নোয়েল ফ্রান্সিস ডি গুজম্যান

এশিয়া- প্রশান্ত মাহাসাগরীয় অঞ্চলের

আঞ্চলিক নীতি ব্যবস্থাপক