নির্বাচনের ফল পক্ষে আনার চেষ্টা থেকে সরে এসেছে সরকার

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪৪
বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে বিরোধীদলকে দমিয়ে রাখা ও নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে আনার সুযোগ থেকে বর্তমান সরকার অনেক দূরে সরে গেছে। রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতারা সংবিধান সংশোধন করে তাদের ক্ষমতাকালকে দীর্ঘ করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার সে নীতিতে অগ্রসর হলেও তারা জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। ব্রিটেনের প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। আজ শনিবারের ছাপা সংখ্যার এশিয়া বিভাগে প্রকাশিত ‘জিরো সাম পলিটিকস’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে দুই নেত্রীর টেলিফোন আলাপ, হরতাল, সহিংসতা, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুই দলের প্রভাব, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও আসন্ন নির্বাচনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৭ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি প্রতারণার আশ্রয় নিতে চেয়েছিলো। তখন সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। তখন দেশে বিদেশে অনেকে এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছিলো। এর দুই বছর পর ২০০৮ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে সরকার সংবিধান থেকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক বাতিল করেছে। শেখ হাসিনা চান নির্বাচনের সময় সর্বদলীয় সরকার গঠন করতে। তবে খালেদা জিয়ার এতে আপত্তি রয়েছে। প্রতিবেদনে বিরোধীদলের হরতাল, সহিংসতা ও হতাহতের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বিশেষ ধারণা হলো হরতালই সফলতা। এর মাধ্যমে বিএনপি দেখাতে চায় জাতীয়ভাবে সংগঠিত হওয়ার মতো ক্ষমতা তাদের আছে। বিভিন্ন জরিপ বলছে, বয়কট না করলে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করবে। ১৯৯১ সালের পর থেকে দুই দল পালাক্রমে বাংলাদেশের ক্ষমতায় এসেছে। সম্প্রতি দুই নেত্রীর টেলিফোনে আলাপের বিষয়ে বলা হয়, গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি ছিলো তাদের প্রথম আলাপ। মূলত আগামী জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদলগুলোর ডাকা ৬০ ঘণ্টার হরতালের আগে প্রধানমন্ত্রী এ মোবাইলে বিরোধীদলীয় নেতাকে ফোন করেন এবং হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। ৩৬ মিনিটের ঐ ফোনালাপে অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়। পুরানো বিবাহিত দম্পতির মতো তারা কে ঝগড়া করছেন তা নিয়েই ঝগড়া করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ঝগড়া করতে চাই না। ওপার থেকে জবাব আসে আপনি ঝগড়া করছেন।