বাংলাদেশের কোন দলের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক নেই

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪৪
ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সন্দ্বীপ চক্রবর্তী বলেছেন, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ভারতের বিশেষ কোনো সম্পর্ক নেই, সম্পর্কটা বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি চলছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য কোনো বিদেশি শক্তির ভূমিকার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ নিজেই এ সমস্যার সমাধান করতে পারবে। একই অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানা বলেছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে গণতন্ত্রের পরীক্ষা চলছে। তবে ইইউ সব সময় এদেশের সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়। গতকাল শুক্রবার রাতে পুরনো ঢাকার বকশিবাজারে অবস্থিত ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মেলা প্রাঙ্গণে সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি আয়োজিত বিজয়া সম্মেলনে বক্তব্য দেন তারা। এ অনুষ্ঠানে উইলিয়াম হানা ছিলেন প্রধান অতিথি এবং সন্দ্বীপ চক্রবর্তী ছিলেন সম্মেলনের উদ্বোধক। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের সেবায়েত প্রবীর চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কানুতোষ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ, ঢাকা মহানগরী পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জী। অনুষ্ঠানে অতিথিদের হাতে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ওপর প্রকাশিত স্মারক গ্রস্থও তুলে দেয়া হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উইলিয়াম হানা বলেন, বাংলাদেশে এখন যা চলছে তা গণতন্ত্রের জন্য একটি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় বাংলাদেশ উত্তীর্ণ হবে বলেই আশা করা যায়। তবে ইইউ সবসময় বাংলাদেশে সবার অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়। ইইউ কখনোই রাজনৈতিক হানাহানি ও দমনপীড়ন দেখতে চায় না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। এখানে দীর্ঘকাল ধরে ধর্মীয় সম্প্রদায়সমূহের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের যে সংস্কৃতি চালু রয়েছে, তা অটুট থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সন্দ্বীপ চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশের সুনির্দ্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ভারতের বিশেষ কোনো সম্পর্ক নেই। সম্পর্কটা শুধু এদেশের মানুষের সঙ্গে। যে জনগোষ্ঠী দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে, তারা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম। গত ৪২ বছরে এই দেশের অনেক অর্জন রয়েছে। ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ সকল ধর্মের মানুষের সম্প্রীতির দেশ। কোনো অশুভ শক্তির অপচেষ্টায় এই সম্প্রীতি বিনষ্ট করা যাবে না। অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সম্প্রীতির জন্য এই দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য রয়েছে। এ ঐতিহ্য বিনষ্টের ষড়যন্ত্র বহুবার হলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং আমরা যে কোনো মূল্যে সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখবো।