আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী শক্তি ব্যবহার করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি। মহাজোট সরকারের উন্নয়ন দেখে খালেদা জিয়া এখন নির্বাচনকে ভয় পান। কারণ নির্বাচন হলে মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে আবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবে। গণতন্ত্র হত্যার অপচেষ্টা রুখে দিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল পল্লবীর পূরবী চত্বরে মহানগর ১৪ দলের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি-জামায়াতের হরতাল নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচির অংশ হিসাবে ঢাকা মহানগর ১৪ দল এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, অতীতে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থেকে দেশকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মানি লন্ডারিং ও পিছিয়ে দেয়া ছাড়া সামনের দিকে অগ্রসর করে নিতে পারেননি। অপরদিকে শেখ হাসিনা দেশের শিশুদের হাতে বছরের প্রথম দিনে বই, রাজধানীতে পানি, গ্যাস ও বিদ্যুত্ সমস্যার সমাধান এবং চাল ও সারের দাম কমিয়েছেন। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে মানুষ নৌকাকে জয়যুক্ত করবে। কারণ শেখ হাসিনার সরকার চালের দাম, সারের দাম কমিয়েছে। পল্লবীবাসীর গ্যাস, পানি ও জলাবদ্ধতার সমস্যা দূর করেছে। তিনি বলেন, মিরপুরসহ সমগ্র ঢাকাবাসীকে উপহার দিয়েছে বনানী, কুড়িল ও গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার। যা খালেদা জিয়া সাত বার জন্ম নিলেও করতে পারবেন না। মতিয়া চৌধুরী বলেন, গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার দিয়ে মানুষ এখন মাত্র তিন মিনিটে শনির আখড়া থেকে গুলিস্তানে পৌঁছাতে পারছে। অথচ ’৯৬ সালে ওই ফ্লাইওভারটির উদ্যোগ নেয়ার পর খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। কারণ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মা-ছেলে দুজনেই ‘খেয়েছেন’। শুধু তাই নয় ‘খোকাবাবুও’ খেয়েছেন। ফলে তারা কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায়।
খালেদা জিয়ার দুই ছেলের সমালোচনা করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া নিজে মেট্রিক পাসও করেননি। তার বড় ছেলে না-কি মানিকগঞ্জের কোন কলেজ থেকে পাস করেছে। কিন্তু সেই কলেজের নাম নেই। মানুষের ছেলে উচ্চ শিক্ষার জন্য যায় বিদেশে, আর খালেদা জিয়ার ছেলে গেছেন মানিকগঞ্জে। তাই তিনি চান না দেশের অন্য ছেলে-মেয়েরা শিক্ষা লাভ করুক। তাই তিনি শিক্ষার্থীর কথা মাথায় না নিয়েই হরতাল কর্মসূচি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের জন্য মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসলে বিএ পর্যন্ত বিনা পয়সায় পড়ালেখার ব্যবস্থা করা হবে। খালেদা জিয়াকে ধ্বংসযজ্ঞের রানী উল্লেখ করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসলে দেশের মেয়েরা চতুর্থ শ্রেণির বেশি পড়ালেখা করতে পারবেন না। হেফাজতের তেঁতুল হুজুরের নির্দেশে দেশের মেয়েদের চার সতিনের ঘর করতে হবে। কোন বাবা-মা তার মেয়েকে চার সতিনের ঘরে যদি বিয়ে দিতে না চান তাহলে খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে মহাজোটের প্রতীক নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে।
স্থানীয় এমপি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লার সভাপতিতেত্ব সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বীর বিক্রম, ফজিলাতুন্নেসা ইন্দ্রিরা এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান প্রমুখ।
