পিরোজপুরে ‘নির্মাণ করা’ ফেরিঘাটের অস্তিত্ব নেই

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৫৩
পিরোজপুর জেলায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ‘পিরোজপুর-হুলারহাট-নাজিরপুর স্বরূপকাঠি ভায়া শ্রীরামকাঠি সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পে বড় ধরনের দুর্নীতি ও ব্যাপক অনিয়ম ঘটেছে। রাস্তার কাজ শেষ হতে না হতেই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রকল্পের আওতায় ফেরিঘাট নির্মাণ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও ফেরিঘাটের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং বর্তমানে কোন ফেরিও চলাচল করছে না। প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের সিলকোট ও ৭ মি.মি. এর স্থলে কোন কোন স্থানে সাড়ে ৩ মি.মি. কার্পেটিং এর কাজ করা হয়েছে। ফলে অনেক স্থানে কার্পেটিংসহ সিলকোট নষ্ট হয়ে গেছে এবং কোন কোন স্থানে রাস্তার পাশে মাটি সড়ে গিয়ে পেভমেন্ট ভেঙ্গে গেছে। পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন (আইএমইডি) বিভাগের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সম্পূর্ণ স্থানীয় সম্পদে মোট ২৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩১ কিলোমিটার দৈর্ঘের সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০০৫ সালের জুলাই থেকে ২০১২ সালের জুন মেয়াদে শেষ হয়। সমপ্রতি আইএমইডি প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি তৈরি করে। এতে দেখা যায়, একই সড়কে একই সঙ্গে উন্নয়ন কাজ করছে সরকারের দুটি মন্ত্রণালয়। তবে ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্পের আওতায়। এ প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সমপ্রতি সড়ক বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিককে চিঠি দিয়েছে আইএমইডি সচিব মোহাম্মদ মেজবাউদ্দিন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রকল্পের ক্রয় পরিকল্পনা দুর্বল ও অস্বচ্ছ বলে প্রতীয়মান হয়। সমাপ্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে ক্রয় সংক্রান্ত তথ্যাদির সঙ্গে বাস্তবায়ন তথ্যাদির গরমিল রয়েছে। একই সড়কের অসংখ্য কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণ করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এলজিইডি ও সড়ক বিভাগ একই সড়কে একই সঙ্গে উন্নয়ন কাজ করছে, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোন সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি বলেও ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্প গ্রহণে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় ছিল না। এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের প্রকাশিত সড়কের তালিকায় পিরোজপুর (হুলারহাট) শ্রীরামকাঠি-স্বরুপকাঠি সড়কের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অপরদিকে শ্রীরামকাঠি-হুলারহাট সড়ক নামে স্থানীয় সড়ক বিভাগের নির্মিত একটি সড়কের নাম কমিশনের তালিকায় রয়েছে। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, এ সড়কে অসংখ্য কালভার্ট, ব্রিজ স্থানীয় সরকার বিভাগ নির্মাণ করেছে। এছাড়া ৮ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও প্রশস্তকরণের কাজ করেছে এলজিইডি। প্রকল্পটি যে উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে তা অর্জিত হয়নি। সড়কটি ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ কিন্তু সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন করেছে। ওই সড়কের শ্রীরামকাঠি ও স্বরুপকাঠি স্থানে কালিগঙ্গা ও সন্ধ্যা নদী রয়েছে। এসব নদীতে কোন ফেরী চলাচল না থাকায় সড়কের যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে কিছু সিএনজি ও ইজিবাইক চলাচল করলেও গণপরিবহনের ক্ষেত্রে কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, প্রকল্পের আওতায় সড়কের সিলকোট অনেক স্থানেই উঠে গেছে। অনেক স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে সাববেজ উন্মুক্ত হয়ে গেছে। কালিগঙ্গা নদীর অপর পাড়ে ২৩ কিমি. থেকে ৮০০ মিটার সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। তাছাড়া প্রকল্পের আওতায় ক্রয় সংক্রান্ত তথ্যের ব্যাপক অসঙ্গতি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পটি ২০০৫ সালে ১৮ কোটি ৮০ লাখ টাকায় অনুমোদন দেন তত্কালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। ২০০৮ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সর্বশেষ সংশোধনীতে বাস্তবায়নের মেয়াদ ২০১২ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ২৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা করা হয়। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শেষ করতে দ্বিগুণ সময় লেগেছে। অতিরিক্ত ৩৭ শতাংশ অর্থ লেগেছে বলে আইএমইডি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।