সংলাপের কথা বললেই বিরোধী দল হরতাল দেয়

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৫৭
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংলাপের কথা বললেই বিরোধীদলীয় নেত্রী হরতালের কর্মসূচি দেন। এ থেকেই বোঝা যায় তারা সংলাপ চান না। তিনি বলেন, গত হরতালের আগে আমরা তাদের দেওয়া আলটিমেটামের আগেই সংলাপের জন্য, আলোচনার জন্য বিরোধীদলীয় নেত্রীকে আমন্ত্রণ জানালাম। কিন্তু তিনি সে আমন্ত্রণ রক্ষা করলেন না। হরতাল দিয়ে ২০ জন মানুষকে হত্যা করলেন। আমরা বলেছিলাম আগামী নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচনকালীন সময়ে আমরা সর্বদলীয় সরকার গঠন করার কথা বলেছি। কিন্তু সে প্রস্তাব বিএনপি নেত্রীর পছন্দ হয়নি। উনি আন্দোলন, সংগ্রামের নামে জ্বালাও, পোড়াও করে মানুষ হত্যা করছেন। জামায়াত-শিবিরের সাথে এক হয়ে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন। এ ব্যাপারে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাদের প্রতিহত করতে হবে। বর্তমান সরকারের গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ সমাপ্ত করে বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার সুযোগ দেয়ার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শনিবার বিকেলে রাজবাড়ীর পাংশা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলের পাশে স্থাপিত অস্থায়ী স্ট্যান্ডে প্রায় ৫শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৬টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি মোঃ জিল্লুল হাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী বক্তৃতা করেন। এসময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জনিয়ার খন্দকার মোশারফ হোসেন এমপি ও রেল মন্ত্রী এ্যাডঃ মজিবুল হক এমপি উপস্থিত ছিলেন। জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ উন্নয়নে বিশ্বাস করে, শান্তিতে বিশ্বাস করে। অথচ বিএনপি আমলে এ অঞ্চলে বহু ঘর-বাড়ি দখল করা হয়েছে, অনেকের উপর অত্যাচার করা হয়েছে তিনি বলেন, বিএনপি আমলে ১ হাজার কোটি টাকার ছাগল কিনে দেশের উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সে ছাগলগুলো খেয়ে ফেলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ উন্নয়নে বিশ্বাসী বলে যে কথা দেয় তা করে দেখায়। আমরা জঙ্গীবাদ সন্ত্রাস দূর করেছি। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করেছি। দুবেলা খাবার, চিকিত্সা, পড়াশুনা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছি। দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করেছি। এদিকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি “রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবন” উদ্বোধন করলেও ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও জনসভায় জেলার অধিকাংশ সাংবাদিকদের পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে নিরাপত্তা পাশ দেওয়া হয়নি। ফলে কোন সদস্যই প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক রাজবাড়ী প্রেসক্লাব ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা আজ রবিবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।