ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পৌর সদরের চন্ডিদাসদী গ্রামে শুক্রবার রাতে পুলিশ পরিচয়ে এক সংখ্যালঘুর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদের অস্ত্রের আঘাতে এসময় গৃহকর্ত্রীসহ ৪ জন আহত হয়। ডাকাত দল ১২ ভরি স্বর্ণ, নগদ ৭৫ হাজার টাকা ও ৬টি মোবাইল সেট লুটে নেয়। এব্যাপারে ভাঙ্গা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, চন্ডিদাসদী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনেটারী ইন্সপেক্টর (অব.) জীবন মল্লিক তার পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তার ছেলে প্রকৌশলী পিযুশ মল্লিক জানায়, শুক্রবার ভাঙ্গা থানার পুলিশ একটি মেয়েকে নিয়ে তদন্ত করতে রাত দশটায় তাদের বাড়িতে আসে। পুলিশ কিছু সময় অবস্থান করে ফিরে গেলে বাড়ির সকলেই ঘুমাতে যায়। গভীর রাতে ডাকাত দল নিজেদেরকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। ২০/২৫ জন সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ঘরের সকলকে অস্ত্রের মুখে বেঁধে ফেলে ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব চালিয়ে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা, দামি মোবাইল লুটে নেয়। গৃহকর্ত্রী লক্ষ্মী রানী মল্লিক বলেন, আমার ছেলেদের বেঁধে রেখে যখন সমস্ত ঘর তছনছ করছে, তখন আমার পুত্রবধূ অর্মিতা মল্লিক চিত্কার দিলে ডাকাত দল তাদেরকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রকাশ মল্লিক (২৮), বিকাশ মল্লিক (৩৫), অর্মিতা মল্লিক (২০) ও তিথি মল্লিক (১২) আহত হয়। রাতে এদেরকে ভাঙ্গা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
খবর পেয়ে রাতেই ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে। উপজেলার পৌর সদরের সংখ্যালঘু জীবন মল্লিকের বাড়িতে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গৃহকর্তার চাচাতো ভাই যুগল চন্দ মল্লিক বলেন, মাঝ রাতে প্রথমে ডাকাত দল বাড়ির কলাপসিবল গেট ভাঙ্গে, এরপর বাড়ির লোকজন জেগে উঠলে ডাকাতরা ‘আমরা পুলিশের লোক’ বলে পরিচয় দেয়। কিছু বুঝে উঠার আগেই ডাকাতরা ঘরে ঢুকে সবাইকে বেঁধে ফেলে। এরপর ঘণ্টাব্যাপী ডাকাতরা ডাকাতি করে। এসময় অর্মিতা চিত্কার দিলে ডাকাতরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।
এব্যাপারে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ ইত্তেফাককে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। রাতে পুলিশ যাওয়ার ঘটনা ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, গাইবান্ধা থেকে পুলিশের একটি টিম এসেছিল তদন্তে ভাঙ্গা থানা পুলিশ তাদের সহায়তা করেছে মাত্র। পুলিশ চলে আসার দুই ঘণ্টার ভিতরে আবারো পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি বিষয়টিকে পুলিশ কিভাবে দেখছে এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান ওসি।
