ভোগ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৫৯
ভোগ্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতার দোহাই দিয়ে বাজারে কৃত্রিম পণ্যসংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামে গুদামগুলোতে লাখ লাখ টন পণ্য মজুদ থাকলেও পাইকারি বাজারে বেচাকেনা কমে গেছে। পণ্যের আমদানি মূল্যের চেয়ে বাজার মূল্য কম এমনটা দাবি করে পণ্য বিক্রি করছে না মজুতদার ব্যবসায়ীরা। আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক বছরে দেশের শিল্প গ্রুপগুলো ভোগ্যপণ্য আমদানি শুরু করায় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে অসত্ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। তারা লোকসান দিয়ে দেশীয় বাজারে পণ্য বিক্রি করায় মাঝারি পর্যায়ের প্রকৃত আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা টিকতে না পেরে আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। দেশের বৃহত্ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে তেল, ডালসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বিক্রি কমে গেছে বলে বিক্রেতারা জানান। এ প্রসঙ্গে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগির আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘গুদামে প্রচুর পণ্য মজুদ রয়েছে। কিন্তু পাইকারি বাজারে বেচাকেনা কমে গেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে কেউ ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না।’ সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে বাণিজ্যিক ভাবে প্রায় তিন শতাধিক পণ্য মজুদের গুদাম রয়েছে। এর বাইরে বৃহত্ শিল্প গ্রুপগুলোর নিজস্ব পণ্য রাখার গুদাম রয়েছে। এসব গুদামে লাখ লাখ টন পণ্য মজুদ থাকলেও পাইকারি বাজারে বেচাকেনা কমে যাওয়ায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে বলে পাইকারি ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন। গুদাম মালিকদের সংগঠন চট্টগ্রাম ঠিকাদার ও কমিশন এজেন্ট এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি নেয়াজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘গুদামগুলোতে প্রচুর ভোগ্যপণ্য রয়েছে। বেচাকেনায় মন্দার কারণে গুদাম থেকে পণ্য ডেলিভারি হচ্ছে না।’ সূত্র জানায়, গত অক্টোবর মাসে পণ্য আমদানি অর্ধেক কমে গেছে। আমদানির সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক বছর পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে অসত্ প্রতিযোগিতা চলছে।