বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বিরোধী দলকে অনেক ছাড় দেয়া হয়েছে। ছাড় দেয়ার সময় শেষ। বিএনপি নির্বাচনে আসার বদলে নির্বাচন থামাতে চায়। কিন্তু বিএনপি নির্বাচন থামাতে পারবে না। আমরা সব দলকে নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ দেয়ার কথা বলেছি। সর্বদলীয় সরকারের অধীনে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার সন্ধ্যায় যশোর বিমান বন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বৃহত্তর যশোর জেলার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তার সাথে বঙ্গবন্ধুর আরেক দৌহিত্র শেখ রেহানার পুত্র রেদওয়ান সিদ্দিকী ববি, প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী আব্দুস সোবহান গোলাপ উপস্থিত ছিলেন।
সজীব ওয়াজেদ জয় যশোরবাসীর উদ্দেশে বলেন, আপনারা যে সম্মান আমাকে দিয়েছেন তাতে আমি অভিভূত। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন একটি সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের জন্য আমার মা নিজে বিরোধী নেত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তারা একদম ছাড় দিতে রাজি নয়। তারা বার বার সংলাপ চায় বলছে। অথচ সংলাপে আমন্ত্রণ জানানোর পরও তারা তিন দিন হরতালে মানুষ হত্যা করলো। এবার আর তাদের ছাড় দেয়া হবে না। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে জয় বলেন, আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। নির্বাচনে আমরাই বিজয়ী হয়ে আসব।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যদের মধ্যে খালেদুর রহমান টিটো, খান টিপু সুলতান, মজিবর রহমান, এমএ বাকের, আব্দুল মান্নান, শফিকুল ইসলাম চঞ্চল ছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম কামাল হোসেন, বিভিন্ন উপজেলা চেয়ারম্যান, সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রেজা রাজু এবং সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাতে তাজা ফুলের তৈরি নৌকা তুলে দেন নেতৃবৃন্দ। তিনি জেলা ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে পরিচিত হন। বক্তব্য শেষে নভো এয়ারের বিমানযোগে তিনি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।
‘সর্বদলীয় নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন হবেই’
খুলনা অফিস থেকে এনামুল হক জানান, সজীব ওয়াজেদ জয় গতকাল বিকাল তিনটায় স্থানীয় সার্কিট হাউসের কনফারেন্স রুমে খুলনা মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জয় বলেন, হরতাল দিয়ে নির্বাচন প্রতিহত করা যাবে না। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সর্বদলীয় সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন হবেই। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শক্ত হাতে নৌকার হাল ধরুন। জনগণকে আবারো নৌকায় ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করুন।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। গতকাল শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় খুলনার প্রবেশদ্বার কুদির বটতলায় পৌঁছালে তার হাতে নৌকা প্রতীক দিয়ে সংবর্ধনা জানান জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে মুখোমুখী অনুষ্ঠান ‘লেটস টক’-এ অংশ নেন জয়। তরুণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
