পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ বিল

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৩, ২০:১৩
সম্প্রতি সংসদে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ বিল-২০১১’ নামে একটি বেসরকারি বিল পাস হয়েছে। এই বিল অনুযায়ী পিতা-মাতাকে ভরণ-পোষণ না করলে সন্তানের বিরুদ্ধে জেল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এর আগে মো. মুজিবুল হক ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ বিল-২০১১’ উত্থাপন করে পাসের প্রস্তাব করেন। এই বিলে বলা হয়েছে, পিতার ঔরসে এবং মাতার গর্ভে জন্ম নেয়া সন্তান তার পিতা-মাতাকে ভরণ-পোষণ না করলে তা হবে জামিন অযোগ্য অপরাধ। তবে আপোষযোগ্য। কোন সন্তানের স্ত্রী বা স্বামী পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ প্রদান না করতে প্ররোচনা দিলে উক্ত স্ত্রী বা স্বামীও কিংবা অন্য সহায়তাকারী উপরোক্ত অপরাধে অভিযুক্ত হবেন। বিলের বিধান অনুযায়ী সন্তানের আয়ের ১০ শতাংশ পিতা-মাতাকে দিতে হবে। বিলে আরও বলা হয়, ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার সঙ্গে একই স্থানে বসবাস নিশ্চিত করতে হবে। কোন সন্তান তার পিতা বা মাতাকে বা উভয়কে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোথাও বা আলাদা আলাদাভাবে বসবাস করতে বাধ্য করতে পারবেন না। প্রত্যেক সন্তান তার পিতা-মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখবে। প্রয়োজনীয় চিকিত্সা সেবা ও পরিচর্যা করবে। তারা পৃথকভাবে বসবাস করলে সন্তানদের নিয়মিত সাক্ষাত্ করতে হবে। এ সংক্রান্ত অপরাধের জন্য দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জেলের বিধান রাখা হয়েছে। হূদি হক আমাদের দেশে বাবা-মা এবং সন্তানের বন্ধন অন্য কোথাও নেই। বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করতে হয়েছে। অনেক পিতা-মাতার দায়িত্ব সন্তান নেয়নি। সন্তান জন্মের পর পিতা-মাতা তার দায়িত্ব নেন। বড় করে তোলেন। আর সেই সন্তান বড় হয়ে যদি বাবা-মায়ের দায়িত্ব না নেয় তাহলে সেটা দুঃখজনক। আর এটা গর্হিত অপরাধের মধ্যেই পড়ে। এটা আইনের মাধ্যমে রোধ করা কতোটা সম্ভব সেই তর্কে না গিয়ে আমি শুধু বলবো, প্রতিটা সন্তানেরই উচিত তাদের বাবা-মায়ের দায়িত্ব নেয়া। আবার অনেকে দেখা যায়, শ্বশুর-শাশুড়িকে কাছে রাখে, শ্রদ্ধা করে। এটা ভাল। তবে সাথে সাথে বাবা-মায়ের দায়িত্বটাও নেয়া উচিত। ০০০ ড. এনামুল হক আইন দিয়ে ভালবাসা পাওয়া যায় না। ছেলে-মেয়েদের মানসিকতা এমন হওয়া উচিত যে, তারা বাবা-মায়ের দায়িত্ব নেবে। এটা তাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। এখানে শিক্ষারও একটা ব্যাপার আছে। আমাদের সমাজের অবস্থা বিচারে আইন প্রয়োগের প্রয়োজন পড়েছে। সন্তানরা যদি পিতা-মাতার দায়িত্ব না নেন তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভালবাসা একান্ত উপলব্ধির ব্যাপার। এখানে এই বিশ্বায়নের যুগেরও একটা প্রভাব আছে। মানুষ হিসাবে আমরা অনেক বেশি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছি। ছেলের যেমন উচিত তার বাবা- মায়ের দায়িত্ব নেয়া তেমনি ছেলের বউয়ের উচিত তার শ্বশুর-শাশুড়ির দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেয়া। ০০০ লাকী ইনাম এই আইনটার দরকার ছিল। এটা কাজে দেবে। এর আগে ‘অভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন’ও কাজে দিয়েছিল। ছেলে-মেয়েদের বাবা-মায়ের জন্য উদার হতে হবে। ছেলে-মেয়েদের মানুষ করার ব্যাপারেও বাবা-মায়ের আরো সতর্ক হতে হবে। তাদের মধ্যে সঠিক শিক্ষা এবং মানবিকতা বোধের বিকাশ ঘটানোর চেষ্টা করতে হবে।