সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সুতারকান্দি স্থলবন্দর দিয়ে দুটি বিলাস বহুল গাড়ি নিয়ে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন বৃটিশ নাগরিককে পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছে। তাদের ধরতে পুলিশ সব কটি থানা ও ইমিগ্রেশন সেন্টারে জরুরি বার্তা পাঠিয়েছে। সেই সাথে তাদের পাসপোর্ট নং ও ফটোও পাঠানো হয়।
শুক্রবার সকালে ঐ স্থলবন্দর দিয়ে অবৈধভাবে দু‘টি পাজেরো জিপ নিয়ে এসে তারা দ্রুত হাওয়া হয়ে গেলে সিলেট জুড়ে হৈ-চে পড়ে যায়। পরে পরিত্যক্ত অবস্থায় নগরীর পৃথক স্থান থেকে গাড়ি দুটি উদ্ধার করা হলেও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গাড়ির মালিকদের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শাখাওয়াত হোসেন রবিবার ইত্তেফাককে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঐ তিন বৃটিশ নাগরিককে ধরতে দেশের সকল বিমানবন্দর, স্থল ও নৌ বন্দরের ইমিগ্রেশন সেন্টারে জরুরি বার্তা পাঠিয়েছে। এছাড়া তাদের পূর্ণ পরিচয় জানতে বৃটিশ হাইকমিশনেও ইমেইল করা হয়েছে বলে জানা যায়।
সিলেট মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তদন্ত চালিয়ে এখন পর্যন্ত অনুপ্রবেশকারী তিন বৃটিশ নাগরিকের মধ্যে শুধু কাবুল মিয়ার আংশিক পরিচয় সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বিশ্বনাথ উপজেলার হাজী আবদুল বাকির ছেলে। এছাড়া অপর দুই নাগরিক আমতর আলী ও আছকর আলীর পরিচয় সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশের ধারণা তাদেরও মূল বাড়ি সিলেটেই হবে। গত বৃহস্পতিবার এই দুটি গাড়ি কাস্টমস আইন অমান্য করে বিয়ানীবাজারের সুতারকান্দি স্থল বন্দর দিয়ে সিলেট প্রবেশ করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। লোক মুখে গুজব ছড়িয়ে পড়ে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম.ইলিয়াস আলী ও হারিছ চৌধুরী ঐ গাড়ি দুটিতে করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন।
বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে গেলে তারা গভীর রাতে নগরীর উপশহরের রাস্তা থেকে একটি ও অপরটি কুমার পাড়ার একটি গাড়ির ওয়ার্কশপ থেকে উদ্ধার করে। গাড়ি দুটি বর্তমানে সিলেট মডেল থানায় আছে।
শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পাজেরো জিপ দুটি দেশে আসায় ও বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে সুতারকান্দি স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা এএসআই সালাউদ্দিনকে গত শুক্রবার প্রত্যাহার করা হয়।
