—সাধারণ মানুষেরই শুধু কষ্ট। চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করার নাই।
—এই সবই চলতে থাকবে।
কথা চলছিল পল্টন মোড়ে সিগন্যালে দাঁড়িয়ে দোতলা বাসে। প্রেসক্লাব হয়ে বাসটি যাবে ফার্মগেটের দিকে।
বাইরে রাস্তায় অন্য দৃশ্য।
জ...য় বাংলা। নৌকা। নৌকা। নৌকা।
শ্লোগান চলছিল ছোট্ট ট্রাক বা পিকাপের উপর। অনেক পিকাপ পর পর যাচ্ছে। অন্য কোন শ্লোগানের চেয়ে শুধু ‘নৌকা’ শব্দটিই বেশি শোনা যাচ্ছে।
‘সামনের সপ্তাহে আবার ইসলামী দলের সমাবেশ আছে সোহরাওয়ার্দীতে,’ বলল কম বয়সী এক ছেলে। তার পাশে বসে থাকা অন্যজন জানতে চাইলো, ‘কারা? জামায়াত না শিবির?’
—জামায়াতও না, শিবিরও না। চরমোনাই। চরমোনাই পীর। সে আবার সমাবেশ করবে সোহরাওয়ার্দীতে।
—সাধারণ মানুষের ভোগান্তি থেকে কোন রক্ষা নেই।
একটু সামনে একা একা বসে থাকা এক মেয়ে খুব বিরক্তি নিয়ে বলে উঠলো, ‘এই হরতাল থেকে উঠলাম। আবার কাল থেকে হরতাল। এই সমাবেশ থেকে উঠলাম। আজ আবার সমাবেশ।’
দোতলা বাসটি প্রায় খালি। হাতে গোনা কয়েকজন উপরে আর নিচে। প্রেসক্লাব থেকে কচ্ছপ গতি।
বিকাল চারটায় প্রেসক্লাব থেকে রওনা দিয়ে কাকরাইল ঘুরে পৌনে পাঁচটার দিকে পৌঁছাল রূপসী বাংলা হোটেলের সামনে। এরপর রাস্তা ফাঁকা।
রূপসী বাংলার সামনে ভরে গেল বাস। পঞ্চাশোর্ধ্ব একজন দোতলায় উঠেই খালি সিট পেলেন। বসেই বলতে শুরু করলেন, ‘মানুষ একদিনে শিক্ষা নেয়। আর আমরা যুগ যুগ ধরে একই রকম। এই ভাবেই চলবে কিন্তু শিক্ষা হবে না।’
ততক্ষণে বাস বাংলামোটর। একটি দোকানের সামনে মানুষের বেশ ভিড়। একমুখো হয়ে দাঁড়িয়ে সবাই। কিছু একটা দেখছে। একটু কাত হয়ে বাইরে দেখে নিয়ে ভদ্রলোক আবার বলতে থাকলেন, ‘বাংলাদেশ মনে হয় আজো ভাল খেলছে। আজো বাংলাদেশ জয়ী হবে।’
