রায় কার্যকরের দাবি বিশিষ্টজনদের

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৩৩
বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনরা। তারা পলাতক এ দু’জনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের দাবি জানান। সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সহ-সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) কে এম শফিউল্লাহ বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট, চাই দ্রুত তা কার্যকর হোক। এ সরকারের মেয়াদেই তাদের ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। সরকার পরিবর্তন হলে সব যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় কার্যকর হবে কি না- তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, আশরাফুজ্জামান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীনকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকে। যদি তাদের ফিরিয়ে না আনা যায় তাহলে জাতি, মুক্তিযোদ্ধা ও স্বজন হারানোদের প্রতি অবিচার করা হবে। তিনি বলেন, পলাতক এই দুই আসামিকে যদি ফিরিয়ে আনা নাও যায় তাহলে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী ওই দুই রাষ্ট্রের উচিত হবে সেই দেশের আইনের আলোকে বিচার করা। শহীদ জায়া ও রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, আমরা সুবিচার পেয়েছি। তবে এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক যে যারা জাতির সূর্য সন্তানদের হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসির রায় হতে এত সময় লাগল। তিনি বলেন, সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যেসব দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী দেশের বাইরে পলাতক আছেন তাদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হোক। তাহলে যারা আমরা স্বজন হারিয়েছি তারা মরে গিয়েও শান্তি পাব। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী শহীদ বুদ্ধিজীবী গিয়াস উদ্দিনের ভাগ্নি মাসুদা হক রত্না বলেন, আজকের দিনটির জন্য প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্ত আমরা অপেক্ষায় ছিলাম। ১৭ বছর বয়সে আমার সামনে থেকেই মামাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ৫৮ বছর বয়সে এসে তাদের বিচার দেখলাম। আগামী নির্বাচনের আগে অন্তত একটি রায় কার্যকর হতে দেখতে চান তিনি। অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিনের ভাই ড. রশিদউদ্দিন আহমদ বলেন, দুই আসামি পালিয়ে আছে মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরোধী আমেরিকা ও ব্রিটেনের মতো দেশে। তাই এই রায় কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে এক্ষেত্রে ইন্টারপোলকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল হক মামা বলেন, এরা বুদ্ধিজীবী নিধনের মাস্টারমাইন্ড ছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নাকের ডগায় লন্ডনে অবস্থান করে এখনও দেশের স্বাধীনতাবিরোধী কাজ করে যাচ্ছে।