গতবছরের শেষদিকে মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির শাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা তীব্র বিক্ষোভ দমনে হত্যাযজ্ঞ চালানো ও সহিংসতা উস্কে দেয়ার অভিযোগে সোমবার থেকে ফের বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন মুরসি। মুরসিসহ একই অভিযোগে আরো ১৪ জন মুসলিম ব্রাদারহুড নেতার বিচার করা হবে। এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্টের সমর্থকরা বড় ধরনের বিক্ষোভের আহ্বান জানালে মিসরজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে সেদেশের নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হেলিকপ্টারে করে মুরসিকে আদালত চত্বরে আনা হয়। এসময় প্রধান ব্রাদারহুড নেতা ইসাম আল-ইরিয়ান, মোহাম্মদ আল-বেলতেগি এবং আহমেদ আব্দেল আটিসহ অন্য নেতারা সাঁজোয়া যানে করে আদালতে আসেন। একটি ডিক্রি জারির মধ্যদিয়ে মুরসি চরম ক্ষমতাপ্রাপ্ত হলে তার প্রতিবাদে ফেটে পড়ে দেশটির জনগণ। ২০১২ সালের ৪ ও ৫ ডিসেম্বর ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্ততপক্ষে ১০ জন নিহত হয়। সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ ও রক্তপাতের মুখে বিরোধীদের সঙ্গে আপস করার জন্য মুরসির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন সিসি। কিন্তু প্রধানত মুসলিম ব্রাদারহুড ও অন্যান্য ইসলামিক দলের ওপর নির্ভর করে সিসিকে অগ্রাহ্য করেন মুরসি। এরই মধ্যে মিসরের রাজপথে ‘তামরুদ’ বা ‘বিদ্রোহ’ নামে সরকার পতনের একদফা আন্দোলন শুরু করে দেশটির তরুণরা। তাদের এ আন্দোলনে সাড়া দিয়ে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। সরকারবিরোধী এই উত্তাল আন্দোলনের মধ্যে ৩ জুলাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে মুরসি শাসনের অবসান ঘোষণা করে নির্বাচনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন সেনাপ্রধান সিসি। প্রেসিডেন্ট ভবন ছাড়তে অনিচ্ছুক মুরসিকে ধরে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখে সেনাবাহিনী। মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতি চালানো হয়। ইসলামপন্থি গোষ্ঠীটির সব শীর্ষ নেতাকে কারাগারে আটক করা হয়। আর রাস্তায় প্রতিবাদরত গোষ্ঠীটির শত শত সদস্যকে গুলি করে মারা হয়। মিসরের বর্তমান সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার মুবারক আমলের মতোই লৌহমুষ্টি শাসন ফিরিয়ে আনছে, কারো কারো মনে এমন শঙ্কা জাগলেও অধিকাংশ মিসরীয় সিসিকে সমর্থন দিচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক ‘ফারাও’ প্রেসিডেন্ট মুবারকের বিচার যে পুলিশ একাডেমিতে স্থাপিত আদালতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, প্রায় ‘ফারাও’ হয়ে ওঠা মুরসিকেও সেই একই আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে।
এদিকে তার সমর্থকরা বলছে, তাকে ক্যু করে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে। এখন তিনি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার শিকার। সোমবার স্থানীয় সময় ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে বিচার চলাকালীন সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ২০ হাজার কর্মকর্তা মোতায়েন করার কথা রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর। ২০১১ সালে মিসরের প্রেসিডেন্ট হিসাবে হোসনি মুবারকের শেষ দিনগুলোতে মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা মোহাম্মদ মুরসি জেল ভেঙে পালিয়েছিলেন। তখন তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি কয়েক বছর না গড়াতেই আবার তাকে এই জেলেই ফিরতে হবে। ঐ ঘটনার প্রায় তিন বছর পর সহিংসতা উস্কে দেয়ার অভিযোগে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুরসি ফের বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাকি জীবন তাকে কারাগারেই কাটাতে হতে পারে অথবা আরো বিপর্যয়কর কোনো শাস্তি মেনে নিতে হতে পারে।
