জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষক সমিতির ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। রবিবার রাতে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষক সমিতির সাথে একাত্মতা ঘোষণাকরী আন্দোলনরত শিক্ষকরা। এদিকে ভিসির পদত্যাগ দাবিতে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছে অফিসার সমিতি এবং কর্মচারী ইউনিয়ন। সেশনজটের বিরুদ্ধেও জাহাঙ্গীরনগর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা আগামী ৭ নভেম্বর দিনব্যাপী অনশনের ঘোষণা দিয়েছেন। ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন নিজ বাসভবনে অবরুদ্ধ অবস্থায় থেকে সাংবাদিকদের জানান,শিক্ষকদের অনৈতিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি চলে যেতে পারেন না।
গতকাল সোমবার ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে সারাদিন তার নিজ বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রাখে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষক ফোরাম। যদিও আন্দোলনকারী শিক্ষকরা দাবি করেছেন, তারা শুধুমাত্র অবস্থান গ্রহণ করেছেন । কাউকে অবরুদ্ধ করেননি। শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে ভিসি কর্তৃক চাকরি বিধি সংক্রান্ত চিঠি প্রেরণ, দু’জন হল প্রাধ্যক্ষকে অপসারণ করা,ক্যান্সার রোগীকে এ্যাম্বুলেন্স না দেয়ায় তাত্ক্ষণিক রবিবার রাতেই ভিসির বাসভবনের সামনে শিক্ষকরা অবস্থান নেন। গতকাল সোমবার সকালে প্রোভিসিরা ভিসির বাসভবনে প্রবেশ করতে চাইলে শিক্ষকরা তাদের বাধা দেন। পরে তারা বাইরে অবস্থান করেন।
গতকাল সোমবার দুপুর একটায় শিক্ষক সমিতি এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদারকে ভিসি কর্তৃক চিঠি প্রদানের ব্যাপারে তাদের জরুরি কার্যনিবাহী সভার সিদ্ধান্ত জানায়। লিখিত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শরিফ উদ্দিন বলেন,সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে ভিসির গোপনীয় কারণ দর্শানোর চিঠি ইস্যুর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এই ধরনের চিঠি প্রেরণের কোন আইনগত ভিত্তি নেই বলে কার্যনিবাহী সভায় উল্লেখ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষার তাগিদে আনোয়ার হোসেনকে ভিসির পদ ছেড়ে দিতে আহবান জানান তিনি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স সমিতি ও কর্মচারী ইউনিয়ন ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে আগামী ৭ তারিখের মধ্যে তাদের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য আল্টিমেটাম দিয়েছে। আর তিনি যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে না পারেন তাহলে তার চলে যাওয়াই উচিত বলে জানিয়েছেন এ সংগঠনের কর্তাব্যক্তিরা। অফিসার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাবুল জানান, ভিসি যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসনে কিছু করতে পারছেন না। তাই তার চলে যাওয়াই উচিত।
দুপুর দুইটায় সাধারণ শিক্ষক ফোরাম ভিসির বাসভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলন করে ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে পদত্যাগের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য পুনঃআহবান জানান। শিক্ষক ফোরামের সদস্য সচিব অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা অবস্থান করবেন।
এদিকে সেশনজটের বিরুদ্ধে ‘জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে শিক্ষার্থীরা আগামী ৭ নভেম্বর শহীদ মিনার চত্বরে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত গণঅনশনের ঘোষণা দিয়েছেন। সেশনজটের আশঙ্কা নির্মূল,ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন তার বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জানান, শিক্ষক সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে যে কারণ দর্শানোর চিঠি প্রদান করা হয়েছে, তা প্রত্যাহার করার প্রশ্নই ওঠে না, জাকসু নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে এবং তা যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে।
ভিসির পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষক সমিতির সর্বাত্মক ধর্মঘটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় দিনেরমত নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। ক্যাম্পাসে চলেনি কোন প্রশাসনিক কার্যক্রমও। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতও ছিল কম।
