সূর্য উঠলেই দিনের শুরু। আর ডুবলেই দিনের সমাপ্তি। তবুও চলবে পথচলা। স্বপ্ন পূরণে ও সুন্দর আগামীর সন্ধানে। ইডেন কলেজের প্রতিটি শিক্ষার্থীর আত্মার সাথে ক্যাম্পাস কখন যে মিশে গেছে হয়তো তারা নিজেরাও জানে না
আনন্দ-বেদনার উপাখ্যান। আর ভালোবাসার খুনসুটি। শোনা গেল না পাওয়া আক্ষেপ। দীর্ঘশ্বাস। অনিশ্চিত আগামীর উত্কণ্ঠা। আর কিছু পাওয়ার আনন্দের উচ্ছ্বাস।
সারাদিন চলে অবিরাম আড্ডা। চলছে দেশের চলমান পরিস্থিতিসহ তারুণ্যের নানান কথামালা। আর কিছু স্বপ্ন নিয়ে কিছুটা সময় পার করে যুক্তি-তর্কে। যেন এক টুকরো তারুণ্যের হাট। আর এই তারুণ্যের হাটে পাওয়া না পাওয়ার গল্প। আনন্দ-বেদনার উপাখ্যান সবার বন্ধু। ভালো লাগা। আছে মন্দ লাগারও ব্যাপার। কথামালার ফাঁকে ঝালমুড়ি খাওয়া। বলছিলাম ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীদের আড্ডার গল্প।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ফারিয়া রাইসা বলেন, বন্ধুরা ক্যাম্পাসের বাহিরে বা ভিতরে প্রিয়জনদের নিয়ে এক সাথে আড্ডা দেয়। মজা করে। বিশেষ সময় পার করে। তাদের মজা করতে দেখে কখনো কখনো খারাপ লাগলেও একটু পরেই মনে পড়ে আগুনের দিন শেষ হবে একদিন, ঝরনার সাথে গান হবে একদিন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের আরেক ছাত্রী নুসরাত জাহান বলেন, ফুরফুরে মেজাজের আড্ডায় সর্বদা মুখরিত থাকে ক্যাম্পাস। আড্ডা আর পড়াশুনায় ব্যস্ত থাকে সবাই। তবে যার-তার সাথে আড্ডা দিতে ভালো লাগে না। প্রিয় মানুষের সাথেই আড্ডা দেই। চেনা মুখগুলোর সাথে আড্ডা দিতেই বেশি মজা।
দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সায়রা সাকিয়া মিতুয়া বলেন, পরিবার ছেড়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য প্রথম ঢাকা শহরে আসা এবং থাকা-খাওয়ার কষ্ট। তবে এখন বেশ মানিয়ে নিয়েছি। একটু হেসে বলেন, বন্ধুরাই আমার পরিবার-পরিজন। যাদের নিয়ে কাটে দিন-রাত্রি।
ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের কামরুন নাহার মালা বলেন, আড্ডায় থাকলে মনে হয় আছি পরিবারের সাথেই। আড্ডার কারণেই ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে ওঠে প্রাণের মেলায়। আড্ডায় না আসতে পারলে অস্থির লাগে। আড্ডার ফাঁকে চলে চায়ের কাপে চুমুক। কেউবা গিটার হাতে বসে যান। শুধু সমবয়সী না, বয়সে বড়দের সঙ্গেও আড্ডা জমে ওঠে।
রোমানা আক্তার। দর্শন বিভাগের ছাত্রী। তিনি জানান, সামাজিক, রাজনৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন ধারণা নেয়া থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের অনেক কিছুই উঠে আসে আড্ডায়। পক্ষে-বিপক্ষে চলে আলোচনা। আড্ডা মানে অফুরন্ত আনন্দ। আড্ডা ছাড়া ক্যাম্পাসের কথা কল্পনাও করা যায় না।
নিগার সুলতানা বলেন, আড্ডার মাধ্যমে জানাশুনার পরিধি বাড়ে। ক্যাম্পাসে আড্ডা মানে প্রাণ খুলে কথা বলা। আড্ডা মানে হাসি মুখ। আড্ডা মানে দুঃখ-কষ্ট ভাগাভাগি করে নেয়া। আড্ডা ছাড়া ক্যাম্পাস জীবন অচল।
সূর্য উঠলেই দিনের শুরু। আর ডুবলেই দিনের সমাপ্তি। তবুও চলবে পথচলা। স্বপ্ন পূরণে ও সুন্দর আগামীর সন্ধানে। ইডেন কলেজের প্রতিটি শিক্ষার্থীর আত্মার সাথে ক্যাম্পাস কখন যে মিশে গেছে হয়তো তারা নিজেরাও জানে না। তবুও চলে আসে বাসায় ফেরার ডাক। আর মনের ঘরে উঁকি মারে ক্যাম্পাসে ফেলে আসা স্মৃতি। হয়তো তাই ভেবে একদল উদ্যমী সিঁড়ির গোড়ায় গেয়ে উঠে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলো হারিয়ে যায়, উজ্জ্বল বর্ণালী দিনগুলো মিলিয়ে যায় হাওয়ায়...।
