কাজী রাইসা রহমাতুল্লাহ। ডাক নাম রাইসা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯ তম ব্যাচের আইবিএ বিভাগের মেধাবী ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক সংগঠন জেইউডিও-এর প্রেস এন্ড মিডিয়া সেক্রেটারী। বিতর্ক অঙ্গনে তার জুড়ি নেই। ক্যাম্পাসের শ্রেষ্ঠ নারী বিতার্কিকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি এডিসি পাবলিক স্পিকিংয়ে ২০১২ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। এছাড়া তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আইবিএ বিভাগ একাধিকবার রানার আপ হয়। তিনি বর্তমানে আইবিএ বিতর্ক সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চিত্রাঙ্কনে তার অসাধারণ প্রতিভা। সম্প্রতি ‘সৃষ্টি ও স্রষ্ঠা’ নামের একটি অনুষ্ঠানে হুমায়ুন আহমেদের ছবি অঙ্কন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। খেলাধুলা অঙ্গনে তিনি ইতিমধ্যে উজ্জ্বল কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইক্লিং প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন এবং দৌড় প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হন। ভলিবল, হ্যান্ডবল, ব্যাডমিন্টন খেলায়ও তার অবদান উল্লেখযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আন্দোলনে তার উপস্থিতি লক্ষণীয়। ২০১২ সালে নারী বিরোধী আন্দোলন ও স্বৈরাচারী ভিসি বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সবদিকে সময় ব্যয় করলেও পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোন ছাড় দিতে রাজি নন তিনি। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি খুবই মনোযোগী। ভিকারুন্নেসা থেকে এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষাতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি ক্ষণ তাকে খুব ব্যস্ত মনে হয়। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেই পড়াশোনা, সময়মত ক্লাসে উপস্থিত, একটু সুযোগ পেলেই সেমিনারে বসে গভীর মনোযোগে অধ্যয়ন, মুহূর্তেই মুখ ভরে মিষ্টি হাসি দিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মেতে থাকতে দেখা যায় সর্বক্ষণ। সবকিছুতেই পারদর্শী হওয়ায় অনেকেই অবাক হন আবার কারো হিংসা জাগে রীতিমত। তার সুন্দর আচরণে মুগ্ধ প্রতিটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী। তাইতো শিক্ষক-সহপাঠীদের কাছে একান্ত প্রিয়ভাজন সে। রাইসা রহমাতুল্লাহ জানান, সবাইকে আপন করে নিতে খুব ভাল লাগে আমার। সাথে চ্যালেঞ্জিং জীবন সবসময় উপভোগ করি। সকল মানুষের হূদয়ের কোণায় নিজের স্থান করে নিতে আমি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাব।
