রামগড় উপজেলার হাফছড়ির পার্শ্ববর্তী সিন্দুকছড়ি হাইস্কুলে ৭ শতাধিক ছাত্রছাত্রীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে। খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় অবস্থিত এ হাইস্কুলটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। টিনশেড ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বর্তমানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নটি মহালছড়ি উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। উপজেলা সদর থেকে যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও অবর্ণনীয় খারাপ। সরেজমিনে দেখা যায়, একটি জীর্ণশীর্ণ টিনশেড ভবনে চলছে পাঠদান। বিদ্যালয়ের একটি টিনশেড ভবনে রয়েছে চারটি শ্রেণিকক্ষ। ভবনের প্রতিটি কক্ষের মেঝে ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। গাছের খুঁটি দিয়ে দেয়ালে ঠেস দেয়া হয়েছে ধস ঠেকানোর জন্য। এই ভবনের পাশেই টিনের ছাউনি ও বাঁশের বেড়া দিয়ে আরেকটি কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। ওই কক্ষের ছাদের নিচে সিলিং না থাকায় সূর্যের তাপে উত্তপ্ত হয়ে উঠে পুরো কক্ষ। মেঝেতে বিছানো রয়েছে ইট। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় গাদাগাদি করে বসতে হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র ত্রিপুরা জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭১৫। স্থায়ী শিক্ষকের সংখ্যা ছয় ও খণ্ডকালীন শিক্ষকের সংখ্যা আটজন। শ্রেণিকক্ষ রয়েছে পাঁচটি। তিনি আরো বলেন, শ্রেণিকক্ষের অভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সিন্দুকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সুইনুপ্রু চৌধুরী জানান, দুর্গম ও দরিদ্রপীড়িত এবং শিক্ষা-দীক্ষায় অনগ্রসর এলাকায় শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে ১৯৯৩ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের ভবনগুলি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। মহালছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোনারতন চাকমা বলেন, সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় বিদ্যালয়ের এই করুণ দশা। যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য সড়ক মেরামতের ব্যাপারে উচ্চপর্যায়ে বার বার ধরনা দিয়ে কোন কাজ হয়নি। এদিকে উপজেলা পরিষদ তহবিলেও পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় বিদ্যালয়টি সংস্কার করা যাচ্ছে না।
