আশরাফুল ইসলাম
পুরনোকে নতুনভাবে বরণ করে নেওয়ার রেওয়াজটা অনেককাল আগে থেকেই চলে আসছে। আসলেই পুরনো ধাঁচ সোনার মতো মূল্যবান কি না, সে সম্পর্কে যুক্তিতর্কের শেষ নেই। তবে এবারের ঈদের বাজার ও ফ্যাশন হাউসগুলো পুরনো ফ্যাশনকে ঘিরেই পুরোদমে চলছে। এ ঈদের ফ্যাশন ট্রেন্ড আগেকার মতোই, তবে বৈচিত্র্য এসেছে প্যাটার্নে। আর আউটলুকে বেশ গর্জাস ও সিম্পলিসিটির চাহিদা বরাবরের মতোই অক্ষুণ্ন আছে। টেলিভিশনের জনপ্রিয় চরিত্রগুলোর পোশাকের প্রভাব, আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ধারা ও কাঁচামালের প্রাপ্যতা—পরিকল্পনার আগে ফ্যাশন হাউসগুলোকে এসব নিয়েও ভাবতে হয়।
জমকালো ও সাধারণ—এই দুই মিলিয়ে ঈদের পোশাক বাছাই করা খানিকটা কঠিন। উত্সব, ভ্যাপসা গরম, সঙ্গে বৃষ্টির কথা মাথায় রেখেই পোশাকের ডিজাইন করেছেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা। নিয়েছেন জমকালো ও স্বস্তিদায়ক কাপড়।
দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো ঈদকেন্দ্রিক। ঈদের সময়টায় ডিজাইনারদের নিত্যনতুন ডিজাইন আসে মূলত উত্সবের রং, ক্রেতার চাহিদা ও ফ্যাশন ট্রেন্ড থেকে। ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে ভারতীয় ও পাকিস্তানি ফ্যাশনের ছাপও এখন প্রকট এদেশীয় ডিজাইনে।
ফেব্রিক বৈচিত্র্য থেকে প্যাটার্ন বা ডিজাইন—এখন সবকিছুতে কনটেম্পরারি টুইস্ট দিতে যেন উত্সাহী ফ্যাশন ট্রেন্ডের প্রতিনিধিরা। নিরীক্ষা চলে বুনন, নকশা, প্রিন্ট, ম্যাটেরিয়াল আর এমবেলিশমেন্ট নিয়েও।
শহুরে তরুণীরা এখন আরো বেশি সচেতন ফ্যাশন ট্রেন্ড, কালার ফোরকাস্টিং বা প্যাটার্ন বা ফেব্রিক বৈচিত্র্যের বিষয়গুলো জানতে। ক্রেতা-চাহিদার প্রভাব তাই দেশীয় রেডি টু ওয়ার ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোতেও। এসব ব্র্যান্ডের দেশীয় ডিজাইনে স্বভাবতই পাশ্চাত্য কাট অনুসরণ এখন বেশ লক্ষণীয়। তবে ঈদের সময়টায় ক্যাজুয়াল পোশাকআশাক নির্ভর করে ব্যক্তির রুচি, শারীরিক গঠন ও বয়সের উচ্ছলতার ওপর। এবার যেহেতু গরমের মাঝামাঝি হচ্ছে ঈদ, তাই সবার পছন্দের শীর্ষে রয়েছে সুতি ও সিল্কের তৈরি পোশাক। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাধান্য পাচ্ছে নীল, হালকা হলুদ, কমলা, বেগুনি, আকাশি, আসমানি, পেস্ট, সাদা, গোলাপি, সবুজ, ফিরোজার মতো হালকা ও উজ্জ্বল রং।
তবে উত্সবের পোশাক হিসেবে বর্ণিল রঙে হালকা কাজ তারুণ্যের পোশাক চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। বরাবরই ফ্যাশন ফলোয়ার হিসেবে মেয়েরা এগিয়ে থাকে। তাই আমাদের দেশীয় ঈদ ফ্যাশনে বৈচিত্র্য তাদের পোশাকেই বেশি করা হয়। তরুণীদের ফিউশনধর্মী কাপড় বেশি পছন্দ। কম বয়সী মেয়েরা সিঙ্গেল কামিজ, পালাজ্জো, ন্যারো শেপ সিগারেট প্যান্ট বা লেগিংস বা স্কার্ট পরছে লেয়ারিং করে। এবারও ভারতীয় আর পাকিস্তানি ফ্যাশন আমাদের দেশে যথেষ্ট প্রভাব ফেলছে। ৪-৫ বছর ধরে এ ধারা তীব্র। সাম্প্রতিক সময়ের ট্রেন্ড সিঙ্গেল পিস কুর্তি আর সঙ্গে বেলবটম কাট ট্রাউজার, যা পালাজ্জো নামে প্রচলিত। ওভেন, নিট—এ দুই কাপড়ের তৈরি পালাজ্জো জনপ্রিয়। এবারের ঈদে এসবও থাকছে চাহিদার শীর্ষে। গতবছরের মতো এবছরও লম্বা কামিজের পাশাপাশি বড় ঘের বা কলি কাটের আনারকলি কামিজ ঈদে দিবে গর্জাস লুক। কামিজের সামনে সুতা, এমব্রয়ডারি, অ্যাপলিক, কুশি কাটারের কাজও বেশ চলছে এবারে। আনারকলির পাশাপাশি এ লাইন কাটিংয়ের সালোয়ার-কামিজের কদর দেখা গেছে বিভিন্ন দোকানে।
লম্বা-কামিজের সঙ্গে চাপা মুহুরির সালোয়ার বা চুড়িদার এবং হালকা কাপড়ের ওড়নাও পরবে কেউ কেউ। এবারও উচ্চতায় ও কাটিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে কামিজের হাতায়ও এসেছে পরিবর্তন। থ্রি কোয়ার্টার ও লম্বা হাতার কামিজ দেখা যাবে বেশি।
এদিকে, ঈদের দিন পাঞ্জাবি না পরলে নিজেকে ঠিক পরিপূর্ণ লাগে না—এমনটাই অধিকাংশ ট্রেন্ডি ফ্যাশন সচেতন তরুণদের ভাবনা। তাই ঈদ উত্সবের রঙে নিজেকে রাঙাতে তারুণ্যের আগ্রহের কেন্দ্রে বরাবরই পাঞ্জাবি। গত বছরের মতো এবার তরুণদের পাঞ্জাবিতে টিউন ফিটের চল দেখা যাবে। তবে বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য কিছুটা ঢিলেঢালাই থাকছে পাঞ্জাবির কাট। আর খাটো পাঞ্জাবির চল এবার খুব একটা দেখা যাবে না। গরমের কারণে কাপড়ের ধরন ভিন্ন হলেও যতটা সম্ভব পাতলাই বেছে নেবে তরুণেরা। পাশাপাশি এবার ছেলেদের ফ্যাশন ট্রেন্ডে রঙ-বাহারি শার্ট ও প্যান্ট বাজারে এসেছে। চেক শার্টের বৈচিত্র্য পাওয়া যাবে এবার। গ্যাবার্ডিন প্যান্টের সঙ্গে ক্যাজুয়াল শার্টের জোড়া ঈদ উত্সবে ছেলেদের আরো স্মার্ট লুক দেবে। কলার ও স্লিভের ডিজাইন বৈচিত্র্য নিয়ে স্লিমফিট কাট এবারও এগিয়ে থাকবে তরুণদের কাছে। পাশাপাশি এনজাইম ওয়াশ বা কুল ডাই বা অ্যাসিড ওয়াশের পোলোগুলোও ঈদ ফ্যাশনে ইন থাকবে। সঙ্গে লোফার বা ক্যাজুয়াল চামড়ার জুতো, বেল্ট পাল্টে দিতে পারে আউটলুক।
পোশাক ও ছবি
ক্যাটস আই
