হরতাল পরিহার করে আসুন সর্বদলীয় সরকার গঠন করি

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৩, ২২:২৭
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচন চান না। উনি চান হরতাল। লাশ না দেখলে তার ঘুম হয় না। হরতাল পরিহারের আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আসুন সর্বদলীয় সরকার গঠন করি। আপনারা যে মন্ত্রণালয় চাইবেন সেটাই দেয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে নওগাঁর পোরশা ডিগ্রি কলেজ মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোট কারচুপির দিন শেষ। এখন স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে নির্বাচন হবে। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার সাথে আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংলাপে বসার জন্য আমি ফোনে তাকে (খালেদা) অনুরোধ জানালাম। কিন্তু তিনি আসলেন না। বরং হরতাল কর্মসূচি বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নিলেন। হরতাল দিয়ে কী লাভ হলো? উল্টো তারা কয়েকজন নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিলেন। হরতালের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রীর মনে শান্তি নেই। আজো (মঙ্গলবার) হরতালে বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। বিরোধী দলীয় নেত্রীর সঙ্গে টেলি সংলাপ সময়ের ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুপুর ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত আমি তাকে ফোন করলাম। কিন্তু উনি ধরলেন না। বিশেষ সহকারীর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হলো রাত ৯টার আগে তিনি ফোন ধরার জন্য প্রস্তুত হতে পারবেন না। একটা ফোন ধরতে এতক্ষণ সময় লাগার কারণ কী? ফোন ধরতে তো আর মেকআপের প্রয়োজন হয় না। পরে তার সঙ্গে কথা হলো। কিন্তু আমার সঙ্গে উনি কী আচরণ করেছেন তা সবাই দেখেছে। আওয়ামী লীগকে আবারো ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দল ক্ষমতায় থাকার কারণেই বিভিন্ন খাতে দেশে বর্তমানে এতো সাফল্য এসেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় দেশের প্রতিটি খাতে উন্নয়ন হয়েছে। অন্যান্য দল ২৮ বছর দেশ শাসন করেছে। কিন্তু তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি। ৩২ মিনিটের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজত বায়তুল মোকাররমে বোমা মেরেছে, পবিত্র কোরআন শরিফে আগুন দিয়েছে। এ লজ্জা আমরা কোথায় রাখব। বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৭ সালে উনিও গ্রেফতার হয়ে ছিলেন; আমিও গ্রেফতার হয়ে ছিলাম। উনিসহ ওনার দুই ছেলেকে সে সময় জেলে নিয়ে গেল। উনি কি তা এখন ভুলে গেছেন? তবে তিনি কেন আবার সে সময় টেনে আনতে চান? তিনি বলেন, বিএনপি ২১ আগস্ট গ্রেনেট মেরে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেদিন প্রায়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী নারী নেত্রী আইভি রহমান মর্মান্তিকভাবে নিহত হন। আমি তাকে বলেছিলাম আপনার জন্ম দিন তো ১৫ আগস্ট নয়; ৫ সেপ্টেম্বর আপনার জন্ম দিন। কেন আপনি ১৫ আগস্ট মিথ্যা জন্মদিন পালন করেন। তিনি তার উত্তরে বললেন, ১৫ আগস্টই তার জন্মদিন পালন করবেনই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে সরকার গঠন করতে পারলে পোরশা ডিগ্রি কলেজসহ দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ ও একটি করে স্কুল সরকারি এবং জেলায় একটি করে উন্নতমানের মসজিদ তৈরি করা হবে। মঙ্গলবার বেলা ২টা ৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে পোরশা উপজেলা হেলিপ্যাডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবতরণ করেন। উপজেলা ডাকবাংলোতে মধ্যাহ্নভোজ শেষে বেলা ৩টা ৬ মিনিটে জনসভায় যোগ দেন। এর আগে প্রায় ১শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ তবিবুর রহমান শাহ্ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন, কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জিনাত আরা হেনরী, নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক এমপি, ইসরাফিল আলম এমপি, শহিদুজ্জামান সরকার এমপি, ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী এমপি, সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি, ইমাজ উদ্দীন প্রমাণিক এমপি, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য শাহিন মনোয়ারা হক প্রমুখ।