১৯৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। সময়ের হিসেবে আজ থেকে প্রায় ৪৫ বছর আগের কথা। সে সময় নিজের বাড়ির উঠান থেকেই শখের ১৯৫৩ মডেলের ট্রায়াম্প টাইগার মোটরসাইকেল খানা হারিয়েছিলেন আমেরিকার নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের ওমাহা শহরের এক যুবক। সাথে সাথে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে এই চুরির বিষয়টিও জানিয়েছিলেন। কিন্তু হারিয়ে যাওয়া সেই মোটরবাইকের দেখা আর মেলেনি। এভাবে একে একে পেরিয়ে গেছে বহু বছর। বিশ্ব মানচিত্র আর ওই যুবকের জীবনেও এসেছে নানা পরিবর্তন। সময়ের পালাবদলে এ বছর ৭২ এ পা দেওয়া ওই ব্যক্তির স্মৃতি থেকেও যেন অনেকটাই মিলিয়ে গিয়েছিল ১০০ সিসি’র ওই মোটরবাইকটি। কিন্তু হারিয়ে যাওয়া সেই স্মৃতি আর ভুলতে বসা সেই মোটরবাইকটিই সম্প্রতি আবার আলোচনায় এসেছে আমেরিকার কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন এজেন্টদের বদৌলতে। কিছুদিন আগে দেশটির লস অ্যাঞ্জেলস পোর্টে জাপানের ইয়োকোহামাতে পাঠানোর জন্য এটি বন্দরে আনা হলে সন্ধান মেলে মোটরবাইকটির। এ সময় কাস্টমসের এক কর্মকর্তা মোটরবাইকটির ভিআইএন (ভেহিকেল আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার) পরীক্ষা করতে গেলে ৪৫ বছর আগে হারানো একটি মোটরবাইকের নাম্বারের সাথে এই বাইকটির নাম্বারের সাদৃশ্য দেখতে পান। আর এই হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগের সূত্র ধরেই ক্যালিফোর্নিয়ার হাইওয়ে পেট্রোলের মালিককে খুঁজে বের করেন যিনি এখনও নেব্রাস্কাতেই বাস করেন। মজার বিষয় হলো, মোটরবাইকটি খুঁজে পাওয়ার খবর জানাতে ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ক্রাইম ব্যুরোর বিশেষ প্রতিনিধি লোউ কোভেন যখন ওই ব্যক্তির কাছে যান তখন তিনি ৪৫ বছর আগে হারানো মোটরসাইকেলটি খুঁজে পাওয়ার কথা কিছুতেই বিশ্বাস করছিলেন না। এমনকি কোভেনকে প্রতারক হিসেবেও ভাবতে শুরু করেছিলেন এ বছর ৭২-এ পা দেওয়া ওই ব্যক্তি। পরে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের ফোন পেয়ে বিষয়টি বুঝতে সক্ষম হন তিনি। উল্লেখ্য, ষাটের দশকে এ ধরনের মোটরসাইকেলের মূল্য ৩০০ ডলারের কাছাকাছি হলেও বর্তমানে এ ধরনের প্রাচীন মডেলের মোটরসাইকেলের মূল্য ৯০০০ ডলারের কম নয়।
