অধিনায়ক হিসেবে সময়টা অসাধারণই কাটছে। কিন্তু ব্যক্তিগত উপলক্ষগুলো যেন কেমন ফিকে হয়ে যাচ্ছে। প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ জিতল, কিন্তু তার ব্যক্তিগত উদযাপন সেভাকে করা হল না; কারণ, ৯০ রানে আউট তিনি। আবার গতকাল ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটি পেলেন, কিন্তু উদযাপন করা হল না। কারণ এবার দলই জিতল না মুশফিকুর রহিমের।
অবশ্য গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে আফসোস তেমন করার সুযোগ পেলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক। পুরো সংবাদ সম্মেলন জুড়েই ক্ষোভ প্রকাশ করে গেলেন তিনি। ক্ষোভটা নিজেদেরই ওপর। পরিষ্কার বলে দিলেন, জিততে না পারলে এমন লড়াইয়ের তাদের কাছে আর দাম নেই। পরাজয়ের মধ্যে আর ‘সম্মানজনক’ শব্দটাই খুঁজতে রাজি নন মুশফিকুর রহিম।
একটা সময় বাংলাদেশ এগিয়ে থাকা দলগুলোর সঙ্গে ভালো লড়াই করতে পারলেই খুব খুশি থাকতো। সেই সময়টা বদলেছে, এখন ২০৪ রান তাড়া করতে গিয়ে ১৫ রানে পরাজয়টাকেও সমান অপমানজনক বলে মনে করে বাংলাদেশ। এই পরাজয়ে কোনো প্রাপ্তি না খুঁজে বরং মুশফিক চেষ্টা করলেন পরাজয়ের কারণ খোঁজার।
কারণ খুঁজতে গিয়ে দুটো ব্যাপার মুশফিক পরিষ্কার করে চিহ্নিত করলেন। প্রথমত এই ম্যাচের প্রথম পাওয়ার প্লের বোলিং। আর দ্বিতীয়ত এবং প্রধানত তিনি মনে করছেন, টি-টোয়েন্টি কম খেলাই তাদের আরেকটি পরাজয়ের কারণ, ‘চার-পাঁচ মাস পর একটা ম্যাচ খেলতে নেমে জয় পাওয়ার আশা করাটাই কঠিন। আমরা যেভাবে ব্যাটিং করেছি, তাকে ক্রিকেটীয় ব্যাটিং বলে না। এভাবে অন্ধের মতো ব্যাট রোজ চালানো যাবে না। আজ যদি জিতেও জেতাম, তাও আমি খুশি হতাম না। আমাদের বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগটা যে ভাবেই হোক তৈরি করতে হবে। তা না হলে এমন ফাইট করে লাভ কী! হার হারই; কিভাবে হারলাম ব্যাপার না।’
দলের বেশি করে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি খেলার দাবি, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে শক্তিশালী করার দাবি; এসব প্রকাশ্যে জানাতে মুশফিক কখনোই কুণ্ঠিত নন। তিনি সবসময়ই মনে করেন, আরও আরও খেলা ছাড়া কোনোভাবেই স্থায়ী উন্নতি করা সম্ভব না। তাই এমন সফল একটা সিরিজ শেষে এই হারটা তাকে আরও বেশি করে দাবিগুলো তোলার সুযোগ করে দিল।
এমনকি পুরো সিরিজে বাংলাদেশের যে ভালো খেলা, তা দিয়েও তিনি আড়াল করতে চাইছেন না এই ব্যর্থতাকে, ‘টেস্ট ও ওয়ানডের সাফল্য দিয়ে টি-টোয়েন্টির এই হারকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আমাদের সেজন্য ভালো প্রস্তুতির বিকল্প নেই। টি-টোয়েন্টিতে আমরা এখনও অনেক পিছিয়ে আছি। জয়-পরাজয় পরের কথা, আমরা কিভাবে খেলবো, কোন স্পেলে অ্যাপ্রোচটা কেমন হবে; এটা তো বুঝতে হবে। এভাবে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও চালাতে থাকাটা টি-টোয়েন্টি নয়। এখানেও অনেক প্লানিং থাকা উচিত। সেটা তখনই হবে, যখন আমরা যথেষ্ট ম্যাচ খেলতে পারবো।’
ম্যাচ অনুশীলনের এই অভাবের পাশাপাশি নির্দিষ্ট করে এই ম্যাচ পরাজয় নিয়েও কথা বলতে হল মুশফিককে। সেখানে তিনি বারবারই বললেন, প্রথম পাওয়ার প্লেতে বোলিংটাই একরকম শেষ করে দিয়েছে তাদের, ‘প্লান অনুযায়ী একদমই বল হয়নি। আমি বলছি না যে, ওই পাঁচ ওভারেই হেরে গেছি আমরা। তবে ৫-৬ ওভারে ৭০ রান দিয়ে ফেলার পর কোনো ভালো ক্রিকেটই আর সেটাকে সামাল দিতে পারে না। আমরাও পারিনি। অন্তত ২০-২৫ রান বেশি দিয়ে ফেলেছি আমরা। এই উইকেটে ১৮০-১৮৫ রান হলেও হয়তো প্লান করে চেজ করা যেত।’
তবে ব্যাটিংটাকেও কম দোষ দিচ্ছেন না মুশফিক। যদিও চার-ছক্কার উত্সব দর্শককে খুব সন্তুষ্ট করেছে, কিন্তু মুশফিক তাতেই সন্তুষ্ট হতে পারছেন না, ‘টপ অর্ডারের আরেকটু দায়িত্বশীল হতে হবে। টি-টোয়েন্টিতেও সেট ব্যাটসম্যানের কিছু দায়িত্ব থাকে। আমি নিজেই আর ৫টা ওভার খেলে আসলে হয়তো অন্যরকম হত ব্যাপারটা। একজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান থাকলে শেষ দু’ ওভারে ২০-২২ রান তাড়া করা যায়। এটাও আসলে অভ্যস্ততার ব্যাপার।’
তবে শেষ বেলায় এসে আর এমন কঠিন মুখ করে থাকতে পারলেন মুশফিক। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ হওয়া লম্বা সিরিজের প্রসঙ্গ যখন এলো, একটু তৃপ্ত মুখেই মুশফিক বললেন, ‘হ্যাঁ, আমরা কিছুটা তো এগিয়েছিই। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, এখন আমরা অনেক পারফরমার পেয়ে গেছি। আগের মতো এক-দুই জন পারফরমারের দিকে চেয়ে থাকে না দল। এটাই সব ফরম্যাটে ধরে রাখতে হবে আমাদের।’
