মাঠেই শেষ নিঃশ্বাস ফেলতে চাই

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৩, ২২:০০
কাগজে-কলমে হিসাব করলে তার বয়স ৭৪ ছাড়িয়ে গেছে। শারীরিক অবস্থা নাজুক। স্বাভাবিক চলাফেরায় মনের শক্তিটাই বড় প্রেরণা যার তিনি ওয়াজেদ গাজী। এদেশের ফুটবল অঙ্গনে সবার প্রিয় একটি মানুষ। সব সময় হাসি লেগেই থাকে তার ঠোঁটে। ফুটবলে নিবেদিতপ্রাণ ওয়াজেদ গাজী খেলোয়াড়দের কাছে গাজী ওস্তাদ নামেই পরিচিত। বিজেএমসির এই কোচ এখনও অনুশীলনে খেলোয়াড়দের আগেই মাঠে উপস্থিত থাকেন। শারীরিক অসুস্থা আছে। বুকে সমস্যা, পায়ে সমস্যা। হাঁটতে গেলে কষ্ট হয়। বিজেএমসির ফুটবল কর্মকর্তা আরিফ খান জয় অনেকদিন তাকে অনুরোধ করেছেন যেন এতো ভোরে মাঠে না গিয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে আসেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা। অসুস্থতা নিয়ে কাকডাকা ভোরে মাঠে নেমে পড়েন। তার কথা হচ্ছে মাঠে না এল তিনি আরো অসুস্থ হয়ে পড়বেন। মাঠই তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। বলছিলেন, আমি মাঠেই আমার শেষ নিঃশ্বাস ফেলতে চাই।’ ডেমরায় করিম জুট মিলের খেলোয়াড়দের সাথে ক্যাম্পেই থাকেন ওয়াজেদ গাজী। অনুশীলন মাঠে বলের উপর তার পায়ের কাজ দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। লেফট উইঙ্গার ছিলেন। প্রতিপক্ষের গোল মুখে বল ফেলার মাষ্টার তিনি। প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলার কৌশল যা জানা। তিনি চলেন নীরবে-নিভৃতে। কারো সাথে জোরে কথাও বলেন না। ৬৬ সালে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের জার্সি গায়ে ক্যারিয়ার শুরু ওয়াজেদ গাজীর। ৬৭, ৬৮ ৭০ সালে লিগে ইপিআইডিসি ফুটবল চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় ওয়াজেদ গাজী। ৭৩ সালে বিআইডিসি চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়। ৭৫ সালে মোহামেডানে খেলে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন গাজী। ৭৭ সালে ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ করে ৮০ সালে কোচিংয়ে পা দিয়েছেন তিনি। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তিনি একটিবারের জন্য মাঠ ছেড়ে যাননি। মাঠের মানুষ হিসাবে তার বাড়িঘর মাঠেই, আর খেলোয়াড়রাই তার সন্তান। বাবার স্নেহের পরশ হাতে গড়ে তুলেছেন বহু ফুটবলার। যারা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলেছেন। গাজী ওস্তাদের তালিম পেয়েছেন কায়সার হামিদ, মোনেম মুন্না, আশীষ ভদ্র, আলফাজ এমিলিসহ অনেক অনেক ফুটবলার। ৮৭ সালে জাতীয় দল নিয়ে পাকিস্তান গিয়েছিলেন। রহমতগঞ্জ, আরামবাগ, মুক্তিযোদ্ধা, ফরাশগঞ্জকে ভালো দলে পরিণত করার কারিগর ছিলেন গাজী। শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র লিগ রানার্সআপ হয়েছে তারই প্রশিক্ষণে। ব্রাদার্স স্বপ্নের লিগ শিরোপা জয় করেছেন ওয়াজেদ গাজীর প্রশিক্ষণে। খেলোয়াড় তৈরির কারিগর ওয়াজেদ গাজী কর্মের পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থার। কিন্তু আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে তার স্বীকৃতি মেলেনি। সাবেক ক্রীড়াবিদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিক কামরুজ্জামান গতকাল বললেন, ওয়াজেদ গাজী সফল ফুটবলার এবং একজন সফল কোচ।’