মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অবাধ, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। তবে তারা কোনো অবস্থাতেই সংঘর্ষ সমর্থন করে না। সফরত যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সম্পর্কিত পররাষ্ট্র বিষয়ক সাব-কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবট গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাত্কালে এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। মার্কিন কংগ্রেসম্যান বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে চমত্কার হিসাবে অভিহিত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনে বন্ধুত্বপূর্ণ এই সম্পর্ক আরো জোরদার হবে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে চায়। কারণ নিরবচ্ছিন্ন গণতন্ত্র ছাড়া দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি সমস্যা সমাধানে সংলাপে বসার জন্য বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করার কথা উল্লে¬খ করেন। কিন্তু বিরোধী দলীয় নেতা তার প্রস্তাবে সাড়া দেননি। এর ফলে হরতালের সময় ২০ জন নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও শক্তিশালী— উল্লে¬খ করে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি দলের কোনোরকম হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রায় ৬ হাজার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
‘এসব নির্বাচনে বিরোধী দলের অনেক প্রার্থী জয়ী হয়েছেন এবং নির্বাচনের ফল নিয়ে কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি’ উল্লেখ করে দেশে আগামী সাধারণ নির্বাচনও নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে নির্বাচনী সংঘর্ষের কথা উল্লে¬খ করেন। তিনি বলেন, সে সময় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২শ’রও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলো। শেখ হাসিনা বলেন, বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। কাজেই এখানে কারো কোনোরকম হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই।
অন্যান্যের মধ্যে প্রখ্যাত আইটি বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট-লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, মুখ্য সচিব শেখ মো:ওয়াহিদ-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোল্ল¬া ওয়াহেদুজ্জামান, যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাম্বাসেডর জন ডানিলোউইকজ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
