পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে ১৫২ জন জওয়ানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার সমালোচনা করেছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। মঙ্গলবার আদালতের রায় ঘোষণার পর এ বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে এই রায় ন্যায়বিচার থেকে বিচ্যুত। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপপ্রধান পরিচালক পলি ট্রুস্কট বলেন, এ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হয়নি। এই রায় বাস্তবায়িত হলে আরও ১৫২টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটবে। সংস্থা ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের নামে পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ড, অপহরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের সবাই জড়িত ছিলেন। এ ঘটনার নিন্দা করে অতীতেও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দায়ীদের বিচার দাবি করেছে। পলি ট্রুস্কট বলেন, ২০০৯ সালের বিদ্রোহে অনেকেই নিহত হয়। অনেকেই স্বজন হারিয়েছে। এটি বোঝা যায়, যে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ এই বিচারের মাধ্যমে এ ঘটনার একটি নিষ্পত্তি চায়। কিন্তু এত মানুষের মৃত্যুদণ্ড কেবল দুর্দশা বাড়াবে। তিনি আরো বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অবশ্যই দায়িত্ব। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড হলো নির্মম ও অমানবিক শাস্তি। তাই মৃত্যুদণ্ড বিলোপের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশের উচিত সকল মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা থেকে বিরত থাকা।
এদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এ রায়ের বিষয়ে তীব্র শঙ্কা প্রকাশ করেছে। গতকাল বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। মানবাধিকার হাইকমিশনার নাভি পিল্লাই বলেন, বিডিআর বিদ্রোহ একটি জঘন্য হত্যাকাণ্ড। কিন্তু এ ধরনের বিচারের মাধ্যমে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। কারণ অনেকক্ষেত্রেই বিচার প্রক্রিয়ার মৌলিক মান রক্ষিত হয়নি।
