হঠাত্ নীরব মিরপুর। যে মিরপুর প্রায় এক মাস ধরে উত্সবের রাজ্য, উদযাপনের এলাকায় পরিণত হয়েছিল, সেই মিরপুর কাল শেষ বিকেলে হঠাত্ যেন এক নিশ্চুপ জগতে পরিণত হল। কোনো কোলাহল নেই, কোনো উচ্ছ্বাস নেই, এমনকি স্টেডিয়ামের নিচতলার দোকানগুলোর খুটখাট শব্দও পাওয়া যাচ্ছিল না। যেন কোনো এক দৈত্য এসে এক ফু দিয়ে নিভিয়ে দিল এতোদিন ধরে চলা উত্সব। হ্যাঁ, অস্বাভাবিক লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৫ রানে হেরে গেল বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে থেমে গেল সেই টেস্ট থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশের প্রতিদিনকার আনন্দ-উত্সব। অবশেষে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়যাত্রা থেমে গেল এই এক পরাজয়ে।
২০৫ রানের দানবীয় লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে যে লড়াইটা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা করলেন, তাতে আর যা হোক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করেই সিরিজ শেষ করল, এটা মানতেই হবে। নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম সফল টি-টোয়েন্টি দল নিউজিল্যান্ড যে বিশাল টার্গেট ছুঁড়ে দিয়েছিল, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকেই সে লক্ষ্যে মাথা উঁচু করে ছুটছিল। একেবারে প্রথম বলেই চার মেরে শুরু করেছিলেন সামসুর রহমান। এরপর বাংলাদেশ নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও প্রত্যেকে লড়াইটা করে গেছেন। দলের নেতা মুশফিকুর রহিম ২৯ বলে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো ৫০ রানের ইনিংস খেলে এই প্রতি আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাকে সঙ্গ দিয়েছেন ৩৪ রান করা মাহমুদউল্লাহ, ২৮ রান করা নাসির ও ২৪ রান করা সোহাগ। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জয়ের জন্য শেষ ২ ওভারে দরকার ছিল ২৮ রান। কিন্তু সে বাধা টপকে ১৮৯ রানের বেশি করা হয়নি বাংলাদেশের।
একেবারে উড়ন্ত সূচনা বলতে যা বোঝায় নিউজিল্যান্ড তাই করেছিল। প্রথম ৬ ওভারেই কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭০ রান তুলে ফেলেছিল তারা। আক্রমণের নেতৃত্বে দিচ্ছিলেন অ্যান্টন ডেভচিস। তার সঙ্গী হামিশ রাদারফোর্ড ও তিন নম্বরে নামা টেলর দ্রুত রান তুললেও শিগগিরই আউট হয়ে যান। কিন্তু ডেভচিস মাত্র ১০টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজিয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই ফিফটি পেয়ে যান; রাজ্জাকের বলে আউট হওয়ার আগে ৫৯ রান করেন তিনি।
এরপর নিউজিল্যান্ডের স্কোরটাকে পাহাড়ের শিখরে টেনে নিয়ে যান আসলে কলিন মুনরো। ৩৯ বলে ৩টি চার ও ৫টি ছক্কায় সাজিয়ে ৭৩ রানের দানবীয় এক ইনিংস খেলেন। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের শেষ ওভারে আল আমিন এসে অন্য প্রান্তে অ্যান্ডারসন ও রনচির উইকেট তুলে নেয়ায় রানের বন্যায় একটু বাধ দিতে পেরেছিল বাংলাদেশ। তারপরও অপরাজিতই থেকে যান মুনরো।
