সাত নভেম্বর ও কর্নেল তাহের

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৫১
৭ নভেম্বর সিপাহীদের অভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক ঘটনা। এর আগে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা, জাতীয় চার নেতাকে জেলে হত্যা, এরপর ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থান। সাধারণ সৈনিকেরা কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে এ অভ্যুত্থান ঘটায়। কর্নেল তাহের স্বপ্ন দেখতেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনী গড়ে তোলার। কর্নেল তাহের মুক্তিযুদ্ধে তার পা হারান। ১৯৭২ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি স্বপ্ন দেখতেন স্বাধীনতার চেতনায় একটি সেনাবাহিনী গড়ে উঠবে; কিন্তু পরবর্তী সময় দেখা যায় তা আর হয়নি। যদিও তিনি সেনাবাহিনীতে ছিলেন না তথাপি সাধারণ সৈনিকরা তার কাছে আসতেন। সেনাবাহিনীকে তিনি জনগণের সেনাবাহিনী করতে চেয়েছিলেন। তিনি ১৯৭২ সালে গড়ে তোলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে জাসদ ১৯৭৩ সালে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা গঠন করে। ৭৫-এর ৭ নভেম্বর সামরিক বাহিনীর ভেতর থেকে যে ঘটনা ঘটেছিল তার প্রকৃত নায়ক ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ১১নং সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তম। তিনিই এ অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন জেনারের জিয়াউর রহমানকে। সাধারণ সিপাহীদের স্বার্থে জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতায় বসান। কিন্তু জিয়াউর রহমান সাম্রাজ্যবাদ-মৌলবাদ রক্ষায় তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন। গ্রেফতার করেন কর্নেল তাহেরকে। ৭ নভেম্বরের ঘটনার নেতৃত্ব দেয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত করে প্রহসনের বিচার করে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেন। সাথে সাথে এ বিপ্লবের সাথে যুক্ত অনেক সিপাহীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেন জিয়াউর রহমান। যে স্বপ্ন কর্নেল তাহের দেখেছিলেন তা ছিল মহান, যা দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যদিও আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে তথাপি রাষ্ট্র এখনও গণতান্ত্রিক হয়ে উঠতে পারেনি। যার প্রমাণ পাই রামুর বৌদ্ধবিহারে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের উপর হামলা বা ২০০৯ সালে পিলখানার হত্যাকাণ্ডে। তার স্বপ্ন বা অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে হবে আমাদের আজকের তরুণ প্রজন্মকে, যে স্বপ্ন লালন করতেন অগণিত শহীদান।