দেখা হয় নাই

আলুটিলা গুহা

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৩, ২০:৩০
বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই আজকের আয়োজনে থাকছে একটি দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো খাগড়াছড়ির আলুটিলা গুহা-এর কথা। নৈসর্গিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি ঝর্ণা আর সবুজের সমারোহ নিয়ে অপূর্ব এক দর্শনীয় স্থান খাগড়াছড়ি। আর এই খাগড়াছড়িরই এক আকর্ষণীয় স্থান আলুটিলা গুহা। প্রায় সিকি কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই গুহার মধ্য দিয়ে মশাল জ্বালিয়ে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যাওয়ার সময় যে রোমাঞ্চকর অনুভূতি হয় সেটি সত্যিই অতুলনীয়। ধারণা করা হয়ে থাকে যে, আজ থেকে বহু বছর আগে মূলত পাহাড়ি স্রোতধারার কারণেই জন্ম হয়েছিল প্রাকৃতিক এই গুহাটির। খাগড়াছড়ি শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে মাটিরাঙা উপজেলার আলুটিলা গুহা অবস্থিত। আলুটিয়ার পূর্ব নাম ছিল আড়বাড়ি পর্বত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় খাগড়াছড়ি অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে এলাকার মানুষ এই পাহাড় থেকে বুনো আলু সংগ্রহ করে তা খেয়ে জীবন রক্ষা করেছিল। সেই থেকেই এ টিলার নাম হয় আলুটিলা। এখনো এই টিলায় প্রচুর পরিমাণে বুনো আলু পাওয়া যায়। অন্যদিকে খাগড়াছড়ি জেলার সবচেয়ে উঁচু (প্রায় ৩ হাজার ফুট) পর্বতের নামই হচ্ছে আলুটিলা। স্বভাবতই আলুটিলা সুড়ঙ্গের পথ বেশ অন্ধকার। এজন্য ওপর থেকে মশাল জ্বেলে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। পর্যটন কেন্দ্রেই সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে পাওয়া যায় মশাল। মশালের আলোয় সুড়ঙ্গের ভেতরের পাথরগুলোকে দেখতে বেশ ভালো লাগে। এ গুহার একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮২ ফুট। অবশ্য এক সময় পাহাড়ের পাদদেশ থেকে গুহার মুখ পর্যন্ত যেতে দর্শনার্থীদের অনেক কষ্ট করতে হতো। তবে বর্তমানে জেলা পরিষদ সেখানে পাকা সিঁড়ি নির্মাণ করায় এখন পাহাড়ের চূড়া থেকে ২৬৬টি সিঁড়ি বেয়ে চলে যাওয়া যায় সুড়ঙ্গের নিচে। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ বেশ কিছু বাস সার্ভিস রয়েছে। তবে ট্রেনে গেলে চট্টগ্রামে নেমে বাসে চেপে খাগড়াছড়ি যেতে হবে। খাগড়াছড়ির জেলা সদরে পৌঁছার ২০ কিলোমিটার আগে মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদর। চাঁদের গাড়িতে অথবা বাসে করেও খাগড়াছড়ি থেকে আলুটিলায় যাওয়া যায়।