সুনামগঞ্জের ২০ গ্রামে মানবিক বিপর্যয়

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৩, ২০:৪৩
অপরিকল্পিতভাবে পাহাড়কাটা, ভূ-গর্ভ থেকে কয়লা ও বালু উত্তোলন, বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড় ধসে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার ও ধর্মপাশা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ২০টি গ্রামে নেমে এসেছে মানবিক বিপর্যয়। প্রতি বছরই পাহাড়ী ঢলে নষ্ট হচ্ছে ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট ও একমাত্র ফসলী জমি। অন্যদিকে ঢলের সঙ্গে নেমে আসা বালুতে নাব্যতা হারাচ্ছে হাওর, নদী ও খাল-বিল। জেলার তাহিরপুর সীমান্তে ২০০৮ সালে প্রথম পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এ সময় নয়াছড়া এলাকায় মেঘালয় পাহাড় ধসে নেমে আসা বালু, কয়লা মিশ্রিত কাদামাটি ও বড় বড় পাথরে মুহূর্তেই অসংখ্য ঘর-বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি চাপা পড়ে এবং ভরাট হয়ে যায় ফসলী জমি ও পুকুর। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মেঘালয় থেকে নেমে আসা বালু ও নুরি পাথরের ঢলে ১৫শ’ একর জমি স্থায়ীভাবে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এসব জমির বেশিরভাগই তাহিরপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের। তাহিরপুরের চাঁনপুর, রজনীলাইন, রাজাই, নয়াছড়া, ট্যাকেরঘাট, লামাছড়া, কলাগাঁও, মাইজহাটি ধর্মপাশা উপজেলার কাইতকোনা, বাঙ্গালভিটা, কার্তিকপুর, ঘিলাগড়া, রংপুর, বাহেরাতলী, বান্দ্রা, কালীপুর, আন্তরপুর, রাজেন্দ্রপুর, কড়ইবাড়ি, রামপুরসহ ২০ গ্রামের কৃষি জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। পানিপ্রবাহে পাহাড়ি ছড়া ভরাট হয়ে যাওয়ায় এলোমেলোভাবে নেমে আসে পাহাড়ী ঢল। বৃষ্টি হলে পাহাড়ে পাদদেশের গ্রামগুলোতে আতঙ্ক দেখা দেয়। রাতের বেলা গ্রামবাসীরা পাহাড় ধসের আতঙ্কে ঘুমোতে পারে না। বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বলেন, ভারত পাহাড়ের অভ্যন্তরে অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করায় বাদাঘাট, উত্তর বড়দল, উত্তর শ্রীপুর তিন ইউনিয়নের ওপর দিয়ে পাহাড়ী ঢলে বালু এবং পাথর প্রবাহিত হওয়ার ফলে এলাকার ফসলী জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এভাবে পাহাড়ী ঢলের সাথে বালু পাথর আসলে আমাদের ফসলী জমির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। এলাকার মানুষ বেকার হয়ে যাবে। এক সময় এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হবে। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, এব্যাপারে বন পরিবেশ মন্ত্রী হাছান মাহমুদের সাথে কথা বলেছি। সমস্যা তুলে ধরে চিঠি দিয়েছি। পাহাড় ধসের ব্যাপারে এবং হাওর ক্লাইমেট চেইঞ্জের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। আশা করছি, এ বছরের শেষের দিকে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে।