দেশের উপকূলীয় জনপদ খুলনা জেলার কয়রা এক সময় কেওড়া, বাইন, কাকড়া, খলিশা গাছে ভরা ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং স্থানীয় লোকজন গাছ কেটে ফেলায় আস্তে আস্তে বন উজাড় হয়ে যায়। গাছ না থাকায় তাপমাত্রা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগও বেড়ে গেছে বহু গুণে। যে কারণে সিডর, আইলার মতো ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ভৌগোলিক চিত্র পরিবর্তন করেছে। নদীর চরে গাছ না থাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোনা পানি এলাকায় ঢুকে ফসলের জমি নষ্ট হচ্ছে। সমস্যাগ্রস্ত এসব জনগোষ্ঠী সংকট উত্তরণে বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ সব কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় জলবায়ূ স্বেচ্ছাসেবক টিম বালিয়াডাংগা নারী উন্নয়ন সংগঠন, খিরোল কৃষক সংগঠনের সদস্যরা এবং স্থানীয় জনগণ মিলে ৬ কিলোমিটার নদীচরে বনায়ন করেছে। এর মধ্যে বালিয়াডাংগা গ্রামে ১ কিলেমিটার, বারইখালীতে ১ কিলোমিটার, খিরোল পশ্চিম পাড়ার দেড় কিলোমিটার, খিরোল মধ্যপাড়ায় ১ কিলোমিটার, শিকারীবাড়ী ২ কিলোমিটার নদীর চরে গোলপাতা, কেওড়া, বাইন এবং কাকড়া গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামীম হাসান জানান, চর বনায়ন উপকূলীয় এ অঞ্চলে জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙ্গন ও ঝড় থেকে মানুষের জানমাল রক্ষা পাবে। এলাকার মানুষ অক্সিজেন পাবে। পরিবেশ রক্ষার জন্য আমাদের সবাইকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
