আম্পায়ারের সংশয় জাগানো সিদ্ধান্তে ইডেনের দর্শকদের হতাশ করে শচিন টেন্ডুলকারকে আউট হয়ে বিদায় নিতে হলো মাত্র ১০ রান করেই। তাতে অবশ্য দমে যায়নি ভারতীয় দল। বরং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দিনের শুরুতে কিছুটা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েও অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া রোহিত শর্মা এবং রবিচন্দন অশ্বিনের ১৯৮ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভারত ১২০ রানে এগিয়ে গেল। ভারত দিন শেষ করে ছয় উইকেটে ৩৫৪ রান তুলে।
রোহিত ১২৭ ও অশ্বিন ৯২ রানে অপরাজিত আছেন। তবে এদিন সব কিছুকে ছাপিয়ে যায় আম্পায়ার নাইজেল লংয়ের সিদ্ধান্তে শচিনের মাঠ ছাড়তে বাধ্য হওয়া। দলীয় ৭৯ রানের মাথায় তৃতীয় ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে মুরলি বিজয় আউট হওয়ার পর মাঠে আসেন ভারতীয়দের ক্রিকেট ঈশ্বর। প্রায় ৩৩ হাজার দর্শক ‘শচিন, শচিন’ চিত্কারে মুখরিত করে তোলেন ইডেনের গ্যালারি। এরপর ২৪ বল খেলে দুইটি চারের মারে ১০ রান করা শচিন আউট হন শিলিংফোর্ডের এক দুসরায়। থেমে যায় দর্শকদের উচ্ছ্বাস। শিলিংফোর্ডের দুসরা ঠিক মতো বুঝে উঠতে পারেননি এই ব্যাটিং জিনিয়াস। রিপ্লেতে দেখা যায়, ব্যাটের ভিতরের কানা ছুঁয়ে প্যাডে লাগে বলটি। তাতে ক্যারিবিয়ানদের আবেদনে সাড়া দিয়ে টেন্ডুলকারকে আউট দেন ইংলিশ আম্পায়ার। টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা গেছে- বলটি শচিনের উরুতে লেগেছিল। আর উইকেট থেকে শচিন যে দূরত্বে ছিলেন তাতে বেনিফিট অব ডাউট পেতে পারতেন বলেই বিশেষজ্ঞরা মত দেন; কিন্তু ললাট লিখনকে মেনে নিয়ে শোকস্তব্ধ ইডেনের সাজঘরে ফিরে যান তিনি।
ভারত কাল মাঠে আসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে তোলা ২৩৪ রানের জবাবে আগের দিনের বিনা উইকেটে তোলা ৩৭ রান নিয়ে; কিন্তু শিলিংফোর্ডের বোলিং নৈপুণ্যে দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। দলীয় ৮২ রানে শচিনের আউটের পর এক রান যোগ করতেই কোহলিও প্যাভেলিয়নের পথ ধরলে বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে শচিন আউট হওয়ার পর ক্রিজে এসে অভিষেক নেয়া রোহিত শর্মা অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির সাথে ষষ্ঠ উইকেটে ৭৩ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামলান; কিন্তু ব্যক্তিগত ৪২ রানে টিনো বেস্টের বলে বাজে শট খেলে নিজের উইকেটটি বিলিয়ে আসেন ভারত অধিনায়ক। ১৬৫ রানে ছয় উইকেট পড়ে গেলে আবারো বিপদে পড়ে ভারত। এরপর অশ্বিনকে সাথে নিয়ে ১৯৮ রানের জুটি গড়ে স্ট্যাম্প তোলার আগ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন রোহিত শর্মা।
রোহিত ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ১৪তম হিসেবে অভিষেক টেস্টে নেমেই সেঞ্চুরি পেলেন। ২২৮ বলে ১৬টি চার ও এক ছক্কার মারে রানগুলো তুলে দল ও নিজকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি। একদিনের ক্রিকেটে তার অভিষেক হয়েছে ২০০৭ সালে। টেস্ট ক্যাপ পাওয়ার আগে এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ১০৮টি একদিনের ম্যাচ খেলেছেন। গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দুইটি সেঞ্চুরিসহ সর্বাধিক রান করেন। এর মধ্যে আছে ২০৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটি। এই ইনিংসে বিপদে দলের হাল ধরার পাশাপাশি ভারতের হয়ে অভিষেক টেস্টে শেখর ধাওয়ানের সর্বোচ্চ ১৮৭ রানকে টপকাতে পারলে রোহিতের জন্য টেস্ট অভিষেকটা হবে আরো স্মরণীয়।
স্কোরকার্ড
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস ২৩৪
ভারত ১ম ইনিংস (আগের দিনের: ৩৭/০)
ধাওয়ান ব শিলিংফোর্ড ২৩
বিজয় ক রামদিন ব শিলিংফোর্ড ২৬
পুজারা ক রামদিন ব কোট্রেল ১৭
টেন্ডুলকার এলবি ব শিলিংফোর্ড ১০
কোহলি ক পাওয়েল ব শিলিংফোর্ড ৩
রোহিত অপরাজিত ১২৭
ধোনি ক রামদিন ব বেস্ট ৪২
অশ্বিন অপরাজিত ৯২
অতিরিক্ত ১৪
মোট (১০২ ওভারে ছয় উইকেটে) ৩৫৪
উইকেট পতন:১- ৪২(ধাওয়ান), ২-৫৭(বিজয়), ৩-৭৯(পুজারা), ৪-৮২(টেন্ডুলকার), ৫-৮৩(কোহলি), ৬-১৫৬(ধোনি)
বোলিং: বেস্ট ১৪-০-৫৩-১, কোট্রেল ১৫-৩-৫৩-১, শিলিংফোর্ড ৪১-৮-১৩০-৪, পেরমল ২০-১-৫৪-০, স্যামি ১২-১-৫২-০।
