আলোচনার দরজা বন্ধ করিনি :খালেদা জিয়া

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪৩
বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার শর্ত জুড়ে আলোচনার পথ রুদ্ধ করেছে, তারা সংলাপের পথ থেকে সরে গেছে। তবে আমরা এখনো আলোচনার দরজা বন্ধ করিনি। ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব অনুযায়ী দুই দলের মহাসচিব পর্যায়ে আলোচনা শুরুর জন্য আমরা এখনো অপেক্ষা করছি। আশা করবো, সরকার সংলাপের পথে ফিরে আসবে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সোহওরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক সমাবেশে রেকর্ড করা ভিডিও ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীর ব্যাপারে দেশবাসীর নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। খালেদা জিয়া বলেন, নির্দলীয় সরকারের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করে আমি এমন আভাসও দেই যে, সমস্যা নিরসনে সরকার যদি কোনো এজেন্ডা নির্ধারণ ছাড়াও আলোচনায় বসতে চায়, আমরা তাতেও রাজি আছি। সে ক্ষেত্রে আলোচনা ও আন্দোলন পাশাপাশি চলবে। আমরা শান্তি চাই বলেই বিরোধী দলে থেকেও দেশের স্বার্থে আমরাই বারবার আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছি। বর্তমান সরকারকে ‘বিদায়ী সরকার’ উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ৯০ দিনেরও কম সময় বাকি। এ সময়েও সরকার সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নীতি-নির্ধারণী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় অর্থ ও সম্পদ ব্যবহার করে দলীয় প্রচার কাজ চালানো হচ্ছে। প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব, বিজিবিকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীর মতো বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমার সঙ্গে টেলিফোনে করা আলোচনা গোপনে রেকর্ড করে ইতোমধ্যে তা সরকারি উদ্যোগে প্রচারও করা হয়েছে। এই রেকর্ডিংয়ের কথা আমাকে আগে জানানো হয়নি। এমনকি সেটি প্রচারের ব্যাপারে আমার সম্মতিও নেয়া হয়নি। এটা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও বেআইনি। সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের ব্যাপারে সরকারের কোনো সদিচ্ছা যে নেই, এর মধ্যে দিয়ে তা প্রমাণিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, টেলিফোনে আমন্ত্রণ জানাবার সময় প্রধানমন্ত্রী আমাকে সরাসরি বিভিন্ন বিষয়ে অভিযুক্ত করে তীর্যক মন্তব্য করতে থাকেন। আমি তার প্রতিটি অভিযোগের সুষ্পষ্ট জবাব দিয়েছি। আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে ফোনে দাওয়াত করার সময় সদিচ্ছা থাকলে কেউ এমন অভিযোগ করে, তা আমার জানা ছিল না। আমি তাকে অতীতের কথা না তুলে বর্তমান সমস্যা নিয়ে কথা বলার জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছি। আমরা ভবিষ্যতে একত্রে কাজ করতে চাই বলেও উল্লেখ করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, তিনি যেন আমাকে অভিযুক্ত করার জন্যই ফোনটি করেছিলেন। খালেদা জিয়া বলেন, দেশের এক সংকটজনক মুহূর্তে এবার সিপাহী-জনতার মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এসেছে। এই দিনটিতে ১৯৭৫ সালে সৈনিক ও জনতার মিলিত উত্থানে তাসের ঘরের মতো ধসে গিয়েছিল জাতিদ্রোহী ভয়ংকর চক্রান্ত। আজও বাংলাদেশ সংকট-কবলিত। সকলের সামনে প্রশ্ন, দেশে গণতন্ত্র থাকবে, নাকি স্বৈরশাসন চলবে? সকলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে, নাকি একতরফা একদলীয় একটি সাজানো-পাতানো নির্বাচন হবে? যেসব রাজনৈতিক দল, সিভিল সমাজের সদস্য, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যাপারে সমঝোতার চেষ্টা করছেন তিনি তাদেরকে ধন্যবাদ জানান। খালেদা জিয়া বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই সর্বদলীয় সরকারের নামে তাদের জোটভুক্তদের নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থেকেই নির্বাচন করার ব্যাপারে অনড় অবস্থান নিয়েছেন। এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যে সম্পূর্ণ অসম্ভব, তা তারা নিজেরাই প্রতি পদক্ষেপে প্রমাণ করেছে। জনগণকে এর বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ পন্থায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। খালেদা জিয়া বলেন, আমি বিরোধী দলের প্রতিটি নেতা-কর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই, সব ধর্মের মানুষের জীবন-সম্পদ-সম্মান ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা আপনারা নিশ্চিত করবেন। ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ প্রমুখ। তাদের বক্তব্য শেষে ভিডিও প্রজেক্টরের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার বক্তব্য প্রচার করা হয়। সমাবেশে শুরুরদিকে মঞ্চের সামনে বসাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কিছু কর্মী হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লে জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়। জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গতকাল সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক প্রদান ও ফাতেহা পাঠ করেন। দলের কেন্দ্রীয় এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারাসহ বিপুল সংখ্যক কর্মী এসময় উপস্থিত ছিলেন।