‘বিরোধী নেত্রীর প্রতি আলোচনার আমন্ত্রণ বহাল আছে’

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৪৬
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের লক্ষ্যে সংলাপে বসার জন্য বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে নতুন করে আর ফোন করবেন না। তবে আগে টেলি সংলাপের মাধ্যমে আলোচনায় বসার যে দাওয়াত দিয়েছিলেন তা এখনো বহাল আছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আলোচনার দরজা এখনো খোলা। আমি তো দাওয়াত দিয়েই রেখেছি। বিরোধী দলীয় নেত্রী চাইলে যে কোন সময় যে কোন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় বসতে পারেন। খালেদা জিয়া ফোন করে আসলে তিনি থাকবেন বলেও জানান। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বড় দুই দলকে সমঝোতায় রাজি করানোর চেষ্টার অংশ হিসাবে ব্যবসায়ীরা প্রায় দুই ঘন্টা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা সংলাপের জন্য আবারো খালেদা জিয়াকে ফোন করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আর তাকে টেলিফোন করবো না। আমি নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়ে রেখেছি। আলোচনায় বসতে আমার আমন্ত্রণ এখনো বহাল রয়েছে। ফোন করে বিরোধী দলীয় নেত্রী আসলে আমি আলোচনায় বসবো। সমঝোতার উদ্যোগ নেয়া ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অগণতান্ত্রিক শক্তিকে আর ক্ষমতায় আসার সুযোগ দেয়া হবে না। কোনভাবে এবার অগণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতায় আসলে ১০ বছরও নির্বাচন হবে না। ব্যবসায়ীরাও ব্যবসা করতে পারবেন না।’ সূত্র জানায়, হরতাল দিয়ে দেশের সম্পদের ক্ষতি না করারও আহ্বান জানান ব্যবসায়ী নেতারা। একই সঙ্গে তারা সংকট নিরসনে দুই দলের মহাসচিব-সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন। তবে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবটিতে তেমন গুরুত্ব দেননি। বরং তিনি বলেছেন, বিরোধী দলে তো স্থায়ী মহাসচিবই নেই। বৈঠকে সাবেক সভাপতি আকরাম হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, মীর নাসির হোসেন, আনিসুল হক, এ কে আজাদ, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি মো. সবুর খান, বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম, বিটিএমএর সভাপতি জাহাঙ্গীর আলামিনসহ ৬০ জন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত এক ব্যবসায়ী নেতা ইত্তেফাককে জানান, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, আপনি যদি আবারো আলোচনার উদ্যোগ নেন এবং বিরোধী দলীয় নেতা যদি তাতে সাড়া না দেন, তাহলে আমরা (ব্যবসায়ীরা) আপনার পক্ষে থাকব। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী ‘নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা’ গঠনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মন্ত্রীরা গত বুধবার থেকে পদত্যাগ করতে শুরু করেছেন। শনিবার বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে ব্যবসায়ীরা দুই দলের মহাসচিব- সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবে খালেদা জিয়া সম্মত হয়েছেন বলে বৈঠক শেষে জানিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। বৈঠকের শুরুতে কাজী আকরামউদ্দিন আহমদ চলমান সংকট নিরসনে ব্যবসায়ীদের ১৪ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। বিরোধী দলীয় নেত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ী সমাজের গভীর উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা ও অর্থনীতির ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি বিরোধী দলীয় নেত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়েছে। সে সঙ্গে দেশের অর্থনীতির স্বার্থে সংযম-সমঝোতার নীতি অনুসরণ করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান ও হরতালসহ অন্যান্য নেতিবাচক রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিহার করে শর্তহীন সংলাপে বসার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বৈঠক শেষে কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ জানান, বৈঠকে সংকট নিরসনে ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেছেন আলোচনার দরজা খোলা আছে। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ও নিঃশর্ত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত আছেন বলেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সমঝোতার বিষয়ে আমরা এখনো আশাবাদী। আমরা দুই-একদিন পর দুই দলের প্রতি আবারও আহ্বান জানাবো, যাতে অচিরেই আলোচনায় বসে সংকটের সমাধান করেন। আলোচনার পথ খোলা রেখে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেই পথে আলোচনায় আসতে বিরোধী দলীয় নেত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।