বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের হরতাল কর্মসূচিতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মহাজোটের সংসদ সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পয়েন্ট অব অর্ডারে অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমদ বলেন, বিরাজমান সমস্যার সমাধান চাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেই বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে বসতে হবে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।
তোফায়েল আহমদ বলেন, ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল সন্ত্রাসের শিকার শিশু মনির শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। বিরোধী দল হরতালের নামে যা করছে তা অতীত ইতিহাসের সবকিছু ম্লান করে দিয়েছে। একাত্তর সালে যেভাবে হানাদার বাহিনী বাঙালিদের অত্যাচার করেছে, একইভাবে বিরোধী দল হরতালের নামে আবারো সেই আমলে ফিরে গেছে। তিনি বলেন, আমি বিরোধী দলকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হলে মানুষের সমর্থন লাগে; কিন্তু বিরোধী দল যে আন্দোলন করছে তাতে মানুষের কোন সমর্থন নেই। এ কারণে হরতালের আগের দিন মানুষকে পোড়ানো হচ্ছে। বোমা মারা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মানুষ এত নিষ্ঠুর হয় কিভাবে। তিনি (বিরোধী দলীয় নেতা) কি মা নন? এই শিশু মনির মারা যাওয়ার আগে শেষ শব্দটি শুধু মা বলে ডাক দিয়েছে।
তোফায়েল আহমদ বলেন, সময় এসেছে প্রয়োজনে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেছেন, ২৭ অক্টোবরের পর প্রধানমন্ত্রী আর নেই। এ কারণে আপনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসতে চান না। অনলাইনে দেখলাম বিরোধী নেত্রী বলেছেন, দুই মহাসচিবের বৈঠকের পর তিনি সংলাপে বসবেন। দেশে বিরাজমান সম্যসার সমাধান চাইলে আপনাকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই বসতে হবে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, হরতাল কর্মসূচি দিয়ে নেতারা বাড়িতে ঘুমান আর বসে বসে টেলিভিশন দেখেন।
রাশেদ খান মেনন বলেন, জামায়াত তাদের প্রচার মাধ্যমের দ্বারা অনবরত মিথ্যাচার চালাচ্ছে। হেফাজত আবারো কর্মসূচি দিয়েছে। তারা বলেছে, যদি সমাবেশ করতে দেয়া না হয় তাহলে তাদের লাখো সমর্থক শহীদ হবে। গত ৫ মে সরকার খুব সঠিক ও স্বাভাবিকভাবে তাদের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা মোকাবেলা করেছে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে ৫ মের ঘটনা তদন্ত করা প্রয়োজন।
সংসদ অধিবেশনের মেয়াদ বেড়েছে
চলতি ১৯তম অধিবেশনের মেয়াদ তৃতীয় দফায় বৃদ্ধি করা হলো। স্পিকার আগামী ১০ নভেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। তৃতীয় দফায় মেয়াদ কত কার্যদিবসের জন্য বাড়ানো হয়েছে তা পরিষ্কার নয়। তবে আরো কয়েকদিন অধিবেশন চালানো হবে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে। এ অধিবেশন গতকাল রাতেই শেষ হওয়ার কথা ছিলো।
