স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২০১১ সালে হাতে নেয়া স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত উন্নয়নে প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে ৫১৯ কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অপরদিকে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি)-এর ফরেন এইডেড প্রজেক্টস অডিট ডিরেক্টরেটের (ফাপাদ) মাঠ পর্যায়ের নিরীক্ষায় ওইসব প্রকল্পের প্রথম অর্থবছরেই কমপক্ষে ১৫১ কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়েছে। এদিকে দিন যত গড়াচ্ছে দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য পাচ্ছেন। এজন্যে প্রকল্পে দুর্নীতির ব্যাপকতা নিয়ে অনুসন্ধান করতে সংশ্লিষ্ট দুদক কর্মকর্তারা রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন।
এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধানকারী এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এটা বড় ধরনের একটি প্রকল্প। পাঁচ বছর মেয়াদী এই কর্মসূচির দু’টি অর্থবছর ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে খরচ হয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। অনুসন্ধান করতে গিয়ে ইতিমধ্যে এ দুই বছরের অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছি। অনিয়মের পরিমাণ ভবিষ্যতে হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন।
সূত্র জানায়, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ মাতৃত্ব, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা সেবাসহ অতি প্রয়োজনীয় সেবা দেয়ার জন্য ২০১১ সালে এই কর্মসূচি গ্রহণ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকার এই কর্মসূচি শেষ হবে ২০১৬ সালের জুনে। এ কর্মসূচির মোট ব্যয়ের মধ্যে রাজস্ব খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৮১৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ২২ হাজার ১৭৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০১১-১২ অর্থবছরে এক হাজার ৪৭২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, ২০১২-১৩ অর্থবছরে এক হাজার ৯৪৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এক হাজার ৯৮৪ কোটি ২০ লাখ টাকা, ২০১৪-১৬ অর্থবছরে তিন হাজার ২০১ কোটি ১৯ লাখ টাকা খরচ ধরা হয়। ৩২টি কার্য পরিকল্পনার (ওপি) মাধ্যমে এই কর্মসূচি সারা দেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
দুদক উপ-পরিচালক ডা. মো. নুরুল হকের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের প্রাতিষ্ঠানিক টিম এই দুর্নীতি অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করছে।
