পাঁচ বছরেও চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি জাহাজের পোড়াতেল-মবিলসহ অন্যান্য আবর্জনার পরিশোধন ব্যয় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এতে করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক প্রায় ৮০ কোটি টাকায় কেনা দু’টি জাহাজ এক প্রকার কর্মহীন পড়ে আছে। চিটাগাং পোর্ট ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন (সিপিটিএফ) প্রকল্পের আওতায় নদী দূষণসহ বন্দর এলাকায় তৈলাক্ত ও কঠিন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যে ‘বেক্লিনার-১’ এবং ‘বেক্লিনার-২’ কেনা হয়। তৈলাক্ত বর্জ্য পরিশোধনের জন্য বিরাট অংকের অর্থ ব্যয়ে পরিশোধন প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়। আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থা কর্তৃক প্রণীত পরিবেশ গাইডলাইন অনুসারে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত বন্দরে তৈলাক্ত ও কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করে তা পরিশোধন করার ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশ ওই সংস্থার স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজ থেকে পোড়া তেল ও মবিলসহ অন্যান্য কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করে পরিশোধন করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ৫ বছর পূর্বেই তৈলাক্ত ও কঠিন বর্জ্যের জন্য দু’টি জাহাজ কেনা এবং একটি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। একই সময়ে ওইসকল বর্জ্য পরিশোধন ব্যয় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ প্রেরণ করা হলেও প্রায় ৫ বছরেও সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। ফলে জাহাজ দু’টি এক প্রকার অলস পড়ে আছে। একইসাথে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের জন্য কেনা যন্ত্রপাতি ও কেমিক্যাল ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ‘বেক্লিনার-১ ও ‘বেক্লিনার-২ জাহাজ দু’টি কেনা হলেও সেগুলো পুরো মানসম্মত নয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজের পোড়া তেল ও মবিল এবং অন্যান্য কঠিন বর্জ্য একটি সংজ্ঞবদ্ধ গ্রুপ কিনে নেয়। উন্নত বিশ্বে ওই সকল বর্জ্য সমুদ্রে ফেলে দেয়া কিংবা ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে পাঠিয়ে দেয়া হলেও বাংলাদেশে এ সকল বর্জ্য কেনার জন্য এক প্রকার প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়। কিছু শিপিং এজেন্ট এবং জাহাজের ক্যাপ্টেনের যোগসাজশে বর্জ্যগুলো বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট বিক্রি করে দেয়া হয়। এ সকল বর্জ্য অবৈধ উপায়ে জ্বালানি তেল ও মবিলের সাথে মিশিয়ে বিক্রি করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্জ্য পরিশোধনে মূল্য নির্ধারণ না হওয়ায় বর্জ্যসমূহ জাহাজ থেকে ঐসব গ্রুপের নিকট চলে যায়।
বন্দরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওই সংজ্ঞবদ্ধ ব্যবসায়ী চক্রই বর্জ্য পরিশোধনের মূল্য নির্ধারণের দীর্ঘসূত্রতার পিছনে কাজ করছে। কারণ বর্জ্য পরিশোধনের মূল্য নির্ধারণ হলে আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার আইন অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজসমূহের তৈলাক্ত ও কঠিন বর্জ্য অবশ্যই বন্দরের নিকট হস্তান্তর করতে হবে। পোড়া তেল ও মবিলসহ অন্যান্য বর্জ্য কোনভাবেই অন্য কারো নিকট বিক্রি করতে পারবে না।
চট্টগ্রাম বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন নাজমুল আলম বলেন, বর্জ্য পরিশোধনের মূল্য নির্ধারণে বিভিন্ন দেশের তথ্য- উপাত্তসহ অনেক সুপারিশ আগেই পাঠিয়েছি। দু’টি জাহাজ দিয়ে নিজস্ব উদ্যোগে কিছু কিছু কাজ করা হচ্ছে।
