প্রিয় শিক্ষার্থীরা, এখন আর তোমাদের স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা দিতে হয় না। স্কুলের বার্ষিক বা অন্যান্য যে কোন পরীক্ষা থেকে সমাপনী পরীক্ষার পরিবেশ কিছুটা ভিন্ন এবং শিক্ষাজীবনের জন্য এর তাত্পর্যও অনেক বেশি। একটি ইউনিয়ন বা অঞ্চলের সবক’টি স্কুলের ছাত্রছাত্রীকে নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। ফলে নিজের স্কুলের চেনা পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়ার যে সুবিধা থাকে সেটাও সবাই পাবে না। সেজন্য কোনো প্রকার মানসিক দুশ্চিন্তা বা ভয় মনে পোষণ করার প্রয়োজন নেই। তোমার স্কুলের শিক্ষকদের মতোই শিক্ষকরা পরীক্ষার হলে কর্তব্যরত থাকবেন এবং তোমাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবেন। আশা করি তোমরা প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল লাভের জন্য সার্বিকভাবে প্রস্তুত। তোমাদের প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর করতে দরকারি পরামর্শ সংবলিত আমাদের এই বিশেষ আয়োজনটি সহায়ক হিসাবে কাজ করবে।
পরীক্ষার আগের রাতের পড়া
পরীক্ষার আগের দিন রাতে খুব বেশি রাত করে পড়ালেখা করা উচিত না। নতুন কোন টপিক শুরু না করে পূবের্র পড়াগুলো অধ্যয়ন করা উচিত। অনেক রাত জেগে পড়ার কারণে পরীক্ষার সময় ক্লান্তি অনুভব হতে পারে এবং স্মরণ শক্তি হ্রাস পেতে পারে।
পরীক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম
পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কলম, পেন্সিল, সাইন পেন, স্কেল, ক্যালকুলেটর, প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ডসহ অনুমোদিত অন্যান্য সরঞ্জাম মনে করে নিয়ে যেতে হবে। অতিরিক্ত কলম ইত্যাদি নিয়ে যাওয়া উচিত। এতে একটি সমস্যা হলে অন্যটি দিয়ে কাজ করা যাবে। প্রয়োজনে সরঞ্জামগুলো পরীক্ষা করে, দেখে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।
সঠিক সময়ে উপস্থিত হওয়া
পরীক্ষার ২০-২৫ মিনিট পূর্বে কেন্দ্রে আসা উচিত, আর পরীক্ষা কেন্দ্র দূরে হলে আরও কিছু বাড়তি সময় নিয়ে আসতে হবে, পথে কোন সমস্যা (যানজট ইত্যাদি) হলে যাতে সমস্যা না হয়।
পরীক্ষার হলে
উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার নির্ধারিত স্থানে ছাত্রছাত্রীর নাম, বিষয়ের নাম, কেন্দ্র ও রোল নম্বর লিখতে হবে। এ ছাড়া স্কুলের শাখা, ঠিকানা বা অন্য কোনো কিছু লেখা যাবে না।
পরীক্ষার্থীকে প্রতিদিন প্রত্যেক বিষয়ের জন্য হাজিরা শিটে অবশ্যই স্বাক্ষর করতে হবে। উত্তরপত্র ও অতিরিক্ত উত্তরপত্রে অবশ্যই ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর থাকতে হবে। উত্তরপত্রের ভেতরে বা বাইরে অপ্রয়োজনীয় কিছু লেখা যাবে না। খসড়ার জন্য কোনো অতিরিক্ত কাগজ দেওয়া হবে না, খসড়া করার প্রয়োজন হলে তা উত্তরপত্রেই করতে হবে। যেখানে খসড়া করবে তার ওপর ‘খসড়া’ কথাটি লিখবে এবং পরে কেটে দিতে হবে।
অতিরিক্ত কাগজ বা স্বাক্ষর প্রয়োজন হলে দাঁড়িয়ে কর্তব্যরত শিক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
প্রশ্ন পাওয়ার পর এক ঘণ্টা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা হলের বাইরে যেতে পারবে না।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর উত্তরপত্র কর্তব্যরত ইনভিজিলেটরের কাছে জমা দিয়ে হল ত্যাগ করতে হবে।
খাতায় মার্জিন টানা
খাতা দেয়ার পর এবং প্রশ্ন পাওয়ার পূর্বের সময়টাতে কিছু কাজ করতে হয়। খাতা সুন্দর করে মার্জিন টানতে হবে। পেন্সিল দিয়ে মার্জিন টানা ভাল। খাতায় ভাঁজ করে কোন দাগ না দিয়েও মার্জিন চিহ্নিত করা যায়। অনেকে খাতায় পৃষ্ঠানম্বর যুক্তও করে।
প্রশ্নটির সম্পূর্ণ অংশ পড়া
প্রশ্ন দেয়ার পর প্রশ্নটি সম্পূর্ণ অংশ পড়া উচিত। প্রশ্নগুলো কঠিন মনে হলেও হতাশ হওয়া যাবে না। বাস্তবতা হলো যে প্রশ্নটি প্রথমে কঠিন মনে হয় তা একটু পরেই সহজ মনে হতে থাকে।
প্রশ্ন বাছাই
অধিকাংশ উত্তরের জন্যই অতিরিক্ত প্রশ্ন থাকে, তা থেকে বাছাই করে লিখতে হবে। সবচেয়ে ভাল জানা উত্তরের প্রশ্নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আবার ভালভাবে জানা দুটি প্রশ্ন থেকে একটি বাছাই করতে হলে ভেবে দেখতে হবে-কোন প্রশ্নের উত্তরে বেশি নম্বর পাওয়া যেতে পারে। প্রমাণ করা, গাণিতিক যুক্তি বা চিত্রসহ অলোচনার প্রশ্নের উত্তরে ভাল নম্বর পাওয়া যায়। তাছাড়া সময় কম থাকলে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে উত্তর দেয়া যায় এরকম প্রশ্ন বাছাই করা উচিত। সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে লেখা শুরু করা ভাল।
সময় বণ্টন
প্রশ্নগুলোর মান ও ধরনের উপর ভিত্তি করে কত সময়ে কোন কোন প্রশ্নের উত্তর দেয়া শেষ হবে তার একটি হিসেব মনে রাখতে হবে। মাঝে মাঝে সময়ের সাথে লেখার গতির হিসেব করে এগিয়ে যেতে হবে। একটি প্রশ্নের বিশাল বিবরণ লিখতে গিয়ে অন্য প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় না পাওয়ার চেয়ে দুঃখের কি আছে !
খেয়াল রাখতে হবে
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই উল্লেখিত সবগুলো অংশের প্রশ্নোত্তর করতে হবে। পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য প্রশ্নের উত্তর শুধু ভালোভাবে জানা থাকলেই হবে না; ভালোভাবে সাফল্য অর্জন করতে হলে উত্তরপত্রের পরিচ্ছন্নতা, হাতের লেখা, বানান, ভাষারীতি, প্রশ্নের নম্বর সঠিকভাবে উল্লেখ করা, উত্তরপত্রে সঠিকভাবে মার্জিন ব্যবহার করা সবকিছুই নিখুঁত হতে হবে। নির্ভুল বানান, পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর হাতের লেখা, পরিমিত মার্জিন রাখা অধিক নম্বর অর্জনের একটি বড় উপায়। তাই প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে লেখার পাশাপাশি হাতের লেখায় পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য বাড়ানোসহ সব নিয়ম-কানুন যথাসম্ভব প্রয়োগ করার চেষ্টা করবে। প্রতিটি পরীক্ষাতেই নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার কমপক্ষে ১০ মিনিট আগে লেখা শেষ করার জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে যাতে কয়েকবার ভালোভাবে রিভিশন দেয়া যায়।
