মো. শাহ আলম সরকার,সহকারি বিশেষজ্ঞ
গণিত ও বিজ্ঞান অনুষদ
ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব)বাংলাদেশ সি-ইন-এড বোর্ড
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমী (নেপ) ময়মনসিংহ।
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, কেমন আছো ? নিশ্চয়ই তোমরা সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছো? খুব বেশি টেনসন করবে না। খুব বেশি টেনসন করলে পরীক্ষা খুব ভালো হয় না। নিচের কথাগুলো একটু মনোযোগ সহকারে খেয়ালে রাখলে গণিত পরীক্ষা আশানুরূপ হবে বলে আমার বিশ্বাস।
এবার তো তোমাদের সমাপনী পরীক্ষা গণিত পরীক্ষা দিয়ে শুরু হবে। গতবারের তুলনায় এবার আধাঘণ্টা বেশি সময় পাওয়া যাবে। বিগত বছরের তুলনায় এবার গণিতের প্রশ্নের কলেবর খুব সামান্যই বেড়েছে, খুব বেশি যে একটা বেড়েছে তা কিন্তু নয়। এবার সর্বমোট ১৩টি প্রশ্নের মধ্যে ১, ২, ৩ এবং ১৩নং প্রশ্নসহ যেকোনো ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। অর্থাত্ ৪ থেকে ১২নং পর্যন্ত ৯টি প্রশ্নের তোমাদের যেকেনো ৬টি প্রশ্ন নির্বাচনের সুযোগ রয়েছে। ১নং প্রশ্নে ১০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (যার প্রত্যেকটির মান ১ নম্বর), ২নং প্রশ্নে ১০টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (যার প্রত্যেকটির মান ১নম্বর) ও ৩নং প্রশ্নে একটি প্রদত্ত তথ্যের আলোকে ৫টি কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন (যার প্রত্যেকটির মান ২নম্বর) থাকবে। এ প্রশ্নগুলোর প্রত্যেকটি যে হুবহু পাঠ্যপুস্তক থেকে থাকবে এমন কিন্তু নয়। তবে ৪ থেকে ১২ নং পর্যন্ত প্রশ্নগুলো হুবহু পাঠ্যপুস্তক থেকে থাকবে। ১৩নং প্রশ্নে জ্যামিতি থাকবে যার ক’তে অঙ্কন এবং খ’তে যেকেনো ২টি সংজ্ঞা লিখন সম্পর্কিত প্রশ্ন থাকবে।
১নং প্রশ্নের বহুনির্বাচনী প্রশ্নের সঠিক উত্তর যদি ‘ক’ তে থাকে তবে ‘ক’ অথবা ক’সমেত প্রদত্ত তথ্যসহ উত্তরটি উত্তরপত্রে লিখতে হবে। ২নং প্রশ্নে সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্নের উত্তর প্রদানে/গাণিতিক সমস্যা সমাধানে বিশদ আকারে গাণিতিক বাক্য না লিখে কম কথায় শুধুমাত্র প্রদত্ত যে সংখ্যাটিকে নির্দিষ্ট সংখ্যা দ্বারা গুণ বা ভাগ করে অথবা অন্যভাবে উত্তর পাওয়া যাবে তা লিখতে হবে এবং এভাবে সমাধান করলে সময় অপচয় কম হবে। ৩নং প্রশ্নটি প্রাথমিক চার নিয়ম সম্পর্কিত কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন হবে যা পাঠ্যপুস্তকে প্রদত্ত সমস্যার সাথে হুবহু মিলবে না। এতে ছোট ছোট পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
৪নং থেকে ১২নং গাণিতিক সমস্যা সমাধান পাঠ্যপুস্তকের নিয়ম ছাড়াও এর বাইরের যৌক্তিক নিয়মে সমাধান করলেও যথাযথ নম্বর পাওয়া যাবে। এবার গাণিতিক সমস্যা সমাধান করার পর তোমাদের কিন্তু ভিন্নভাবে ‘উত্তর/ নির্ণেয় উত্তর’ লিখতে হবে না, যা তোমরা পাঠ্যপুস্তকের উদাহরণ দেখলে বুঝতে পারবে। গাণিতিক সমস্যা সমাধানে যা বের করতে হবে তা ‘/অতএব/সুতরাং’ সহযোগে লিখতে হবে। গণিত মুখস্ত করার বিষয় নয়। তাই গণিতের প্রতিটি সমস্যা বুঝেশুনে সমাধান/উত্তর করতে হবে। যদি গাণিতিক সমস্যা সমাধানে গুণ/ভাগ/কাটাকাটি/ খসড়া করার প্রয়োজন হয় তবে তা উত্তরপত্রের ডানদিকে খাড়ারেখা টেনে তার ডানে সমাধানের কাছাকাছি লিখলেই ভালো হয়। এতে প্রমাণিত হয় শিক্ষার্থী গাণিতিক সমস্যাটি বুঝেশুনেই সমাধান করেছে। কোনো বড় ভগ্নাংশকে লঘিষ্ট করার জন্য লব এবং হরকে একইসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে আমরা কাটাকাটি করে থাকি। তাছাড়া ভগ্নাংশের লব ও হরের সংখ্যাগুলোকে গুণ ও ভাগ করে লঘিষ্ট করা যেতে পারে।
১৩নং আবশ্যিক জ্যামিতি সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর প্রদানে প্রথমে ক’তে চিত্র অঙ্কন সম্পর্কিত প্রশ্ন থাকবে যেখানে নির্দেশনা মোতাবেক চিত্র অঙ্কন করে/পরিমাপ করে তা উত্তরপত্রে লিখতে হবে। দ্বিতীয় অংশ খ’তে চিত্রসহ যেকোনো ২টির সংজ্ঞা লিখতে হবে। সংজ্ঞার সাথে বিভিন্ন বর্ণ/অক্ষর দিয়ে চিত্রের বর্ণনা/লেভেলিং/বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করলে ভালো নম্বর পাওয়া যাবে। জ্যামিতিক চিত্র পেন্সিল দিয়ে অঙ্কন করা উত্তম।
