সিপিবি-বাসদের জনসভায় দেশে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে বাম দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আওয়ামী-বিএনপি, জোট-মহাজোটের বাইরে তৃতীয় শক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানান দেশের সমাজতান্ত্রিক ধারার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। ‘আওয়ামী লীগ-বিএনপি মেরুকরণের বাইরে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প বলয় গড়ে তোল’- এই শ্লোগান নিয়ে আট দফা বাস্তবায়নের দাবিতে সিপিবি-বাসদ ঐক্যবদ্ধভাবে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ‘শিখা চিরন্তন’ এর পাশে এই জনসভার আয়োজন করে।
জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম দেশের সকল বামপন্থী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তৃতীয় শক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপি, জোট-মহাজোটের হাতে বাংলাদেশ আর নিরাপদ নয়। এরা নিজেদের ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে ব্যস্ত। তিনি বলেন, বামপন্থীদের আন্দোলন ও দাবি আদায়ের শক্তি আর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্বার্থ উদ্ধারে ব্যবহূত হতে দেয়া হবে না। আসন্ন নির্বাচনে বামপন্থী দলগুলো সম্মিলিতভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে। দেশের বামপন্থীরা যেমন আওয়ামী লীগের একতরফা নির্বাচনকে প্রতিহত করবে তেমনি বিএনপির অযৌক্তিক জেদকে প্রশ্রয় দিয়ে নির্বাচন বয়কটে সায় দেবে না।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগের উদ্দেশে এই কমিউনিস্ট নেতা বলেন, হরতাল প্রত্যাহার করে আপনাদের দুই দলকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঐক্যমতে পৌঁছাতে হবে। যদি ব্যর্থ হন তাহলে আবারো ‘ওয়ান ইলেভেন’র মত অপশক্তি দেশের টুঁটি চেপে ধরবে। তিনি বলেন, নৌকা-লাঙ্গল-পাল্লা-শীষ, সব সাপেরই দাঁতে বিষ, তফাত্ শুধু ঊনিশ বিশ। এই দুই দলের জেদের কারণে দেশ আজ গভীর সংকটে। মুক্তিযুদ্ধের ধারায় দেশকে ফিরিয়ে আনতে না পারলে নতুন নতুন চেহারা নিয়ে এ সংকটের আবির্ভাব ঘটবে। সেলিম বলেন, এখন সবচেয়ে বড় বিপদ হয়ে দেখা দিয়েছে জামায়াত ও হেফাজত। এরা দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে চায়। দেশকে এই মহাবিপদ থেকে রক্ষা করতে হবে। কেননা বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই দলই এই সাম্প্রদায়িক দলগুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে।
সমাবেশে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, বিএনপি-আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা ও ক্ষমতায় যাওয়াকে কেন্দ্র করে চর দখলের লড়াইয়ে লিপ্ত। মানুষের কান্না, দুর্ভোগ, দুর্দশাকে পুঁজি করে মানুষের লাশের ওপর দিয়ে এরা ভোট টানতে চায়। জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে যে সংকট চলছে তা একদিনে সমাধান সম্ভব। তিনি দ্বি-বলয়ের বাইরে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই দুই নেত্রীর হাতে দেশের মানুষ আর নিরাপদ নয়। এদের হাত থেকে আগে দেশকে বাঁচাতে হবে। দেশে তৃতীয় শক্তির প্রয়োজন। এই বাম দলগুলোই বিকল্প শক্তি হতে পারে। শেখ হাসিনা আর খালেদা জিয়া নিজেদের জেদ নিয়ে টানাটানি করছেন মন্তব্য করে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, হয় তারা কথা বলবেন, তা নাহলে আমরা দেশের সুশীল সমাজকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় বসে যাবো। এই হানাহানি আর মানুষের মৃত্যু আর চলতে দেয়া যায় না। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি মফিজুল ইসলাম কামাল, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
সিপিবি-বাসদের ৮ দফা দাবিগুলো হলো: দ্বি-দলীয় বৃত্ত ভাঙ্গা, বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প রাজনৈতিক বলয় গড়ে তোলা, সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু, টাকার খেলা, পেশীশক্তি, প্রশাসনিক কারসাজি, সাম্প্রদায়িক প্রচারণামুক্ত ও দল-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা, সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা, বিচারের রায় অবিলম্বে কার্যকর করা, আইন করে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা এবং রামপালে বিদ্যুকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ বন্ধ করা ও ফুলবাড়ি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন।
