মওদুদ এমকে আনোয়ার রফিকুল মিয়া গ্রেফতার

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৫৮
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল শুক্রবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের সামনে থেকে ডিবির একটি টিম ব্যারিস্টার মওদুদকে গ্রেফতার করে মিন্টো রোডে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যায়। একই সময় ডিবির আরেকটি টিম এম কে আনোয়ার ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে গ্রেফতার করে। এম কে আনোয়ারকে এলিফ্যান্ট রোড থেকে গ্রেফতার করা হয়। রফিকুল ইসলাম মিয়াকে বাংলামোটর মোড় থেকে গ্রেফতার করে ডিবি। তাদেরও মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে নোয়াখালীর কবিরহাটে আজ শনিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জেলা বিএনপি। এমকে আনোয়ারের গ্রেফতারের প্রতিবাদে কুমিল্লার হোমনায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে স্থানীয় বিএনপি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বিএনপির ঐ তিন নেতাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘তাদেরকে আটক করে মিন্টো রোডে ডিবির কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।’ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যার পর আয়োজিত ঐ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা যোগ দেন। ঐ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রখ্যাত কলামিষ্ট কুলদীপ নায়ার ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার সম্পাদক যোগ দেন। বিএনপির ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এমকে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. মঈন খান, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবর রহমান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, শমসের মবিন চৌধুরী, এনাম আহমেদ চৌধুরী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ডিবির একটি সূত্র জানায়, অনুষ্ঠানে বিদেশি সাংবাদিকদের সাথে বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মত বিনিময় হয়। রাত ৮ টার পর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ শেষে গাড়িতে করে হোটেল থেকে বের হন। তাকে বহন করা গাড়িটি সার্ক ফোয়ারা মোড়ে ইউটার্ণ করে এফডিসি ক্রসিংয়ের দিকে যাওয়ার সময় কাওরান বাজারের বিটিএমসি ভবনের পাশে ডিবি পুলিশের একটি গাড়ি দিয়ে গতিরোধ করা হয়। ডিবি পুলিশের একজন পদস্থ কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে তাদের গাড়িতে ওঠার অনুরোধ করেন। পরে ডিবি পুলিশ মওদুদ আহমদকে ঐ গাড়িতে করে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। একই সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া হোটেল সোনারগাঁও থেকে বের হয়ে গাড়িতে করে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ দিয়ে বাংলামোটর মোড়ের দিকে রওনা দেন। বাংলামোটর মোড়ে ডিবি পুলিশের একটি টিম ঐ গাড়িটি থামিয়ে রফিকুল ইসলাম মিয়াকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনার ঠিক ৫ মিনিট পর হোটেল সোনারগাঁও থেকে এমকে আনোয়ার বের হয়ে এলিফ্যান্ট রোডে তার বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। এলিফ্যান্ট রোড বাটা সিগন্যালের কাছাকাছি একটি স্থানে ডিবি পুলিশ গাড়িটি থামিয়ে এমকে আনোয়ারকে আটক করেন। এদিকে এ ঘটনার পরপর ডিবির একটি টিম শাজাহানপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বাড়িতে অভিযান চালায়। তবে ঐ সময় মির্জা আব্বাস বাসায় ছিলেন না। একই সময় রায়েরবাজারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ রায়ের বাসায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এ বাড়িতেও পুলিশ গয়েশ্বর চন্দ রায়কে পায়নি। এছাড়া সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার, হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুক, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হেলালসহ আরো বেশ কিছু নেতার বাসায় অভিযান চালানো হয়। তবে তাদের বাসায় পাওয়া যায়নি। গণকারফিউর মতো কঠোর কর্মসূচিও দেয়া হবে :মওদুদ এর আগে গতকাল একটি অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সর্বদলীয় সরকারে বিএনপি যোগ না দিলে তা হবে কার্যত ১৪ দলীয় জোট সরকার। এ সরকারের সদস্য সংখ্যা হয়ত বাড়বে বা কমবে, কিংবা নতুন কিছু মুখ আসবে। তিনি বলেন, সরকার যদি সমঝোতার পথে না আসে তাহলে শুধু লাগাতার হরতাল নয় অবরোধ, অসহযোগ এবং গণকারফিউর মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। তবে সরকার যত কলা-কৌশলই করুক না কেন, আগামী নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনেই হবে। গতকাল শুক্রবার স্বাধীনতা ফোরামের উদ্যোগে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মওদুদ এসব কথা বলেন। এদিকে তিন নেতাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম, সীতাকুণ্ড মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও ভাংচুর করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এছাড়া গতকাল সন্ধ্যার পর রাজধানীর কাওয়ানবাজার ও মিরপুরে দুটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। এর বাইরে রাজধারীর বেশ কয়েকটি স্থানে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা ব্রজেন কুমার হাওলাদার বলেন, রাত সোয়া ১১টার দিকে কাওয়ান বাজারে পান্থপথের দিকে যাওয়ার মোড়ে একটি প্রাইভেট কারে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। প্রায় একই সময় মিরপুর পূরবী সিনেমা হলের সামনে একটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়। ব্রজেন হাওলাদার বলেন, আগুনের খবর পেয়ে তাদের দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। এদিকে বিএনপির তিন নেতাকে আটক করার পর ফার্মগেট এলাকায় কয়েকটি হাতবোমা ফাটানো হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেনি পুলিশ। বিএনপি বলেছে, তিন নেতাকে অবিলম্বে মুক্তি না দিলে রবি থেকে মঙ্গলবার ঘোষিত ৭২ ঘণ্টার হরতাল আরো দীর্ঘায়িত হবে।অবশ্য তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার গ্রেপ্তারে বাধ্য হয়েছে। আজ হরতাল মওদুদ আহমেদকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে নোয়াখালীর কবিরহাটে আজ শনিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জেলা বিএনপি। এমকে আনোয়ারের গ্রেফতারের প্রতিবাদে কুমিল্লার হোমনায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে স্থানীয় বিএনপি। বিএনপি ভোলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে।