নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে দুই দফায় ৬০ ঘণ্টার হরতাল শেষে এবার একটানা ৭২ ঘণ্টার হরতাল আহ্বান করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। কাল রবিবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত সারাদেশে এই হরতাল আহ্বান করা হয়েছে। চিকিত্সা সেবা প্রদানকারী যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স, খাবারের দোকান, ডাক্তারদের যানবাহন, ওষুধের দোকান, সংবাদপত্রের যানবাহন হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।
গতকাল শুক্রবার বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৮ দলীয় জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে হরতালের এ ঘোষণা দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বৈঠকে ফের টানা হরতাল কর্মসূচি দেয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
উল্লেখ্য, নির্দলীয় সরকারের দাবিতে গত ২৬, ২৭ ও ২৮ অক্টোবর এবং চলতি মাসের ৪, ৫ ও ৬ নভেম্বর দুই দফায় দেশব্যাপী টানা ৬০ ঘণ্টা করে হরতাল কর্মসূচি পালন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট।
সাংবাদিক সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার তথাকথিত সর্বদলীয় অধীনে নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু এই দেশের জনগণ নির্দলীয় সরকারের অধীনে ছাড়া কোনো নির্বাচন মেনে নেবে না। সেই কারণে আমরা আবারো ১০ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে ৭২ ঘণ্টার হরতাল আহ্বান করছি।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার সর্বদলীয় সরকারের কথা বলছে এবং জনগণের যে দাবি তা উপেক্ষা করে একতরফা নির্বাচনের পথে এগিয়ে চলেছে। সরকার মুখে ও বক্তৃতায় সমঝোতার কথা বললেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তিমূলক কথা বলছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কোনো বিকল্প নেই। এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামীতে আবারো কঠোর কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা মহানগরীতে মিছিল সভা সমাবেশ এমনকি মানববন্ধন করার অধিকার হরণ করা হয়েছে। এই সরকার একদিকে হত্যা, নিপীড়ন, নির্যাতন চালিয়ে জনগণকে স্তব্ধ করে রাখতে চায়, আন্দোলনকে স্তব্ধ করে রাখতে চায়। অন্যদিকে তথাকথিত সর্বদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চায়।
মহাসচিবদের বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ডা. রেদোয়ান উল্লাহ, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের, ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি তৈয়বসহ জোটের বিভিন্ন দলের মহাসচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
