বিএনপি নির্বাচন বয়কট করলে রাজপথ সহিংস হতে পারে

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:০৪
নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মত দিলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত বিএনপিকে আসন্ন নির্বাচন বর্জনে উসকানি দিতে পারে। আর বিএনপি বর্জন করলে নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে। এ রকম পরিস্থিতিতে আগামী মাসগুলোতে রাজপথে সহিংসতা বাড়তে পারে। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ইকোনমিস্টের আজ শনিবারের ছাপা সংখ্যায় প্রকাশিত ‘মিউটিনি অ্যান্ড রিভেঞ্জ:এ ম্যাস কনভিকশন অব মিউটিনিয়ারস কামস অ্যাট পলিটিক্যালি ডেলিকেট মোমেন্ট’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়েছে, পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা মামলায় সমপ্রতি আদালত যে রায় দিয়েছে তাতে সেনাবাহিনীর কাছে শেখ হাসিনার অবস্থান আরো দৃঢ় হবে। জাতীয় নির্বাচনের কিছুদিন আগে ঘোষিত এই রায় শেখ হাসিনাকে অতিপ্রয়োজনীয় শক্তি যোগাতে পারে। যদিও আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুব একটা নেই বললেই চলে। কারণ মামলার আপিল প্রক্রিয়ায় কয়েক মাস লেগে যাবে। প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়, শেখ হাসিনার নবগঠিত সরকারের সামনে বিডিআর বিদ্রোহ ছিল এক অগ্নিপরীক্ষা। ঘৃণ্য সেই হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ নিহত হন ৭৪ জন। সদ্য দায়িত্ব নেয়া প্রধানমন্ত্রী সেখানে সেনাবাহিনী পাঠানোর বদলে বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনার পথ বেছে নেন। যে কারণে বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞ এড়ানো সম্ভব হয়েছিলো। ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পর এবং আসন্ন নির্বাচনের মাস দুয়েক আগে গত মঙ্গলবার অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়। এতে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। যদিও বাংলাদেশের কোনো আদালতই আন্তর্জাতিক বিচারিক মান অনুসরণ করে না। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই রায় এমন সময় এল যখন বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের চেয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি জনপ্রিয়তায় অনেক এগিয়ে রয়েছে। জরিপে আরও দেখা গেছে, ভোট কারচুপি এড়াতে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষেই অধিকাংশ মানুষ মত দিয়েছে। শেখ হাসিনা নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত বিএনপিকে নির্বাচন বর্জনে উসকানি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে এবং আগামী মাসগুলোতে রাজপথে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর সেরকম কিছু হলে ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা দেয়াও যাদের অন্যতম কাজ, সেই সেনাবাহিনী চূড়ান্ত রাজনৈতিক ভূমিকা নিতে পারে। আর সেনাবাহিনী ক্ষুব্ধ হয় এমন কিছু করার আগ্রহ শেখ হাসিনার নেই।