আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের সকল জনপ্রতিনিধির বিদেশ সফর বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া সকল সরকারি কর্মচারীর বিদেশ সফর কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের কোন ধরনের বিদেশ সফরের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসনিক প্রধানদের কাছ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সমপ্রতি উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দলের দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে। দীর্ঘদিন প্রস্তাব ফেরত না আসায় মন্ত্রীর একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তার মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয় যে, মন্ত্রীর নির্দেশ হচ্ছে আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী এবং স্থানীয় সরকারের কোন জনপ্রতিনিধিকে বিদেশ সফরের অনুমতি দেয়া হবে না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সরকার সব সময়ই অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর নিরুত্সাহিত করতে চায়। কারণ এতে কাজের ক্ষতি হয়। কিন্তু কর্মকর্তাদের অনেকের মধ্যে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বিদেশ সফরের প্রবণতা দেখা যায়। এর কারণ অবশ্য ভিন্ন। বিদেশ সফরে গেলে কিছু আর্থিক সুযোগ পান কর্মকর্তারা।
সূত্র জানায়, বেশিরভাগ মন্ত্রী ও সচিবের একান্ত সচিব ও সহকারী একান্ত সচিবরা ইতিমধ্যে পোষ্টিং নিয়ে বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন। অনেকে বিদেশ পাড়ি দেয়ার অপেক্ষায় আছেন। এ বিষয়টি প্রশাসনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অনেকেই বলছেন, প্রায় পাঁচ বছর দেশে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে এখন দেশের সংকটের সময় তারাই আবার বিদেশে বাড়তি সুবিধা লুটতে যাচ্ছেন। এ নিয়ে সচিবালয়ে এক ধরনের ক্ষোভ-অসন্তোষও রয়েছে।
ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সামসুল হক টুকুর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান দোলন বিদেশ পাড়ি জমানোর সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। সেটা অবশ্য প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশেই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ করেছিল।
সূত্র মতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার কর্মকর্তাদের এই মূহূর্তে বিদেশ যাওয়াকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। রাষ্ট্রের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া আর কাউকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, কোন মন্ত্রণালয় থেকে বহির্বাংলাদেশ ছুটির প্রস্তাব গেলেও তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অনুমোদন করছেন না প্রধানমন্ত্রী। এমনকি নিজ খরচে পারিপারিক ছুটি কাটানোর মতো প্রস্তাবও অনুমোদন করছেন না তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, ইতিমধ্যে একটি কুচক্রী মহল সচিবালয়ে প্রচারপত্র বিলি করেছে। সেখানে বেশ ক’জন সচিব সম্পর্কে অসত্য কুরুচিপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি প্রশাসনের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। কারা এসব কাজে জড়িত তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তবে এখন কেউ বিদেশ গেলে ওই মহল আরও অপপ্রচারের সুযোগ পাবে বিধায় বিদেশ সফর নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসেইন ভূঞা ইত্তেফাককে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের বিষয়টি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সরকার সব সময়ই চেষ্টা করে থাকে, যাতে একই মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা একইসঙ্গে বিদেশ না যান। তবে এই মূহূর্তে নিতান্তই জরুরি না হলে এ ধরনের সফর নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে।
