পশুর নদী ড্রেজিং প্রকল্প ১৩ নভেম্বর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:০৬
মংলা বন্দর ব্যবহার উপযোগী করার লক্ষ্যে নৌ মন্ত্রণালয় ১০৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার ড্রেজিং প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ৩৫ লাখ ঘনফুট পলি অপসারণ হবে ৬০ সপ্তাহের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ১৩ নভেম্বর এ প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। ১৮ বছর আগে পশুর নদীতে সর্বশেষ ড্রেজিং হয়। সুন্দরবন সংলগ্ন পশুর চ্যানেল, করমজল, জয়মনিরগোল ও হারবাড়িয়া নামক স্থানে নোঙ্গর করে পণ্য খালাস করছে বিদেশি জাহাজগুলো। পশুর নদীর নাব্যতা না থাকায় ৯ মিটার গভীরতার জাহাজগুলো মংলা বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারছে না। বন্দরের পশুর চ্যানেলে গত ১৮ বছর ড্রেজিং হয়নি। বন্দরের প্রাণ ফিরিয়ে দিতে ১০৬ কোটি টাকার ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ আগামী মাস নাগাদ শুরু হবে। ৬০ সপ্তাহের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ বন্দর ব্যবহারের জন্য নেপাল, ভুটান ও ভারত অপেক্ষায় রয়েছে। বন্দরের সিভিল ও হাইড্রোলিক বিভাগ সূত্র জানান, ১৯৫০ সালে বন্দরের যাত্রা শুরু হওয়ার সময় মংলা নালা ও পশুর নদীর সংযোগস্থলে নদীর গভীরতা ছিল ৩৫ ফুট। ৬৩ বছরের ব্যবধানে ২০১৩ সালে এই চ্যানেলে ৯ ফুট গভীরতার জাহাজ প্রবেশ করতে পারে না। বিদেশি জাহাজ ঝুঁকির কারণে হারবারিয়া পর্যন্ত আসতে রাজি হয় না। প্রতিবছর চ্যানেলে এক দশমিক ৪ ফুট পলি জমছে। আবার কোথাও কোথাও এর চেয়ে বেশি পলি জমে। ১৯৯১-৯২ অর্থ বছরে পশুর চ্যানেলে নাব্যতা সৃষ্টির জন্য ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে মেসার্স চায়না হারবার কোম্পানি ৩৫ লাখ ঘনমিটার পলি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করে। ১৯৯৪-৯৫ অর্থ বছরে জরুরিভিত্তিতে এক লাখ ঘন মিটার পলি অপসারণ করা হয়। অস্বাভাবিকভাবে পলি জমে বন্দরের চ্যানেলে ক্রমাগত হুমকির সম্মুখীন হলেও অর্থ সংকট এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান না পাওয়ায় বিভিন্ন সময় ড্রেজিং করা যায়নি। এই প্রকল্পের আওতায় চ্যানেলের জয়মনিরগোল থেকে বন্দর জেটির উত্তরপাশ সবুর বেকন পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার ড্রেজিং করা হবে। মংলা বন্দরের প্রধান প্রকৌশলী (সিওহা) মো. কাওসার আলী জানান, চায়না হারবার কোম্পানির ড্রেজিং মেশিন ইতোমধ্যেই বন্দর এলাকায় পৌঁছে গেছে।